তিন নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়াসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত আছে। করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই করছে। আর তিস্তা, বাঙ্গালী ও যমুনা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে।
পানি বৃদ্ধির বিষয়টি শুক্রবার ( ২ অক্টোবর ) সন্ধ্যা ৬ টায় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি বছরের পর পর ৪ দফা বন্যার ধকল কাটাতে না কাটাতে ৫ম দফা বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ হাজার মানুষ ফের পানিবান্দি হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মুখে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে গেছে। পৌরসভার হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
গোবিন্দগঞ্জ পৌর সভার বাসিন্দা কলিম উদ্দিন জানান, আমরাঅনেক কষ্টে আছি । গত ২০ বছরে করতোয়া নদীতে এতো স্রোত দেখিনি । তীব্র স্রোতে নদীর আশেপাশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
পলাশবাড়ী উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মাহমুদ আলী জানান, বন্যার পানিতে বসতবাড়ীতলে গেছে । অনেক কষ্টে উচু স্থানে মানবেতন জীবন কাটাচ্ছি কেউ আসেনা খোজ নিতে।
পলাশবাড়ী উপজেলার তেনাকী গ্রামের কাশেম উদ্দিন জানান, বাঁধ ভেঙে গতসপ্তাহে এই উপজেলার ১৫ টি গ্রাম পানি বন্দি হয়ে পরেছে। এই উপজেলায় আমন ধানের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে পানিবন্দি হাজার হাজার পরিবার। সরকারি সহযোগীর প্রয়োজন।
গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, বন্যার কারণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঘোড়াঘাট উপজেলা হয়ে দিনাজপুর জেলায় যোগাযোগের আঞ্চলিক মহাসড়কটি বন্যার পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
পালাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা কাদের আলী বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কষ্ট বেড়েছে। আমরা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের চান্দু মিয়া বলেন, এবারের বন্যায় আমার পাঁচ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। সামনের দিনে কী খাব নিজেও জানি না।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিতলা গ্রামের আব্দুল মালেক জানান, উপজেলার বগুলাগাড়ীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচটি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধান, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফজানান, বন্যায় এ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । বন্যা কবলিত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়াতেআমরা ত্রান বিতরণ করছি । সরকারি ভাবে আরো ত্রানের প্রয়োজন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী মজুত আছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যায় কবলিত ও ক্ষতি গ্রস্তদের তালিকা ত্রাণ বিতরণ অব্যহত আছে ।
জাহিদ খন্দকার, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি



