দেশবাংলা

‘আমার বাবা কোথায়’

মাদারীপুর ট্রাক চালক এনায়েত মল্লিক(৩৫) পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবারসহ মাদারীপুুর শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে শ্রমিক ও এলাকাবাসী।

‘আমার বাবা কোথায়? ’আমার বাবাকে এনে দাও আমার জন্য খাবার নিয়ে আসে না কেন?’’ এভাবেই জানতে চাইলেন নিহত এনায়েতের ছোট ছেলে ৫বছর বয়সী মেহেরাজ বার বার একথা বলছে। রবিবার সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে এভাবেই করা হয়।

নিহত এনায়েতের বড় ছেলে রাব্বি মানববন্ধনে শুধু একটা কথা বলেই কান্না করেছে আমার বাবাকে যে হত্যা করেছে তার বিচার চাই, তার ফাসি চাই।

মানববন্ধনে রিয়াজ মল্লিক জানান, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে আমরা ১৪জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি কিন্ত প্রধান আসামীকে এখন গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারিকে গ্রেপ্তার করে ফাসি চাই। মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের শতাধিক লোকজন ছাড়াও মাদারীপুরের ৫টি শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠনের শ্রমিক ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, নিহতের পরিবার হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এছাড়াও কয়েকজনকে আটক করেছি। বাকিদের আটকের চেস্টা চলছে।

উল্লেখ্য’ গত ১৩ অক্টোবর রবিবার রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার মঠেরবাজার এলাকার মাদারীপুর- শরিয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত ইজি বাইকের সাথে ট্রাকের ধাক্কা লাগায় এনায়েত মল্লিক(৩৫) কে পিটিয়ে হত্যা করার থানায় একটি মামলা হয়। নিহত এনায়েত কালকিনি উপজেলার আটি পাড়া গ্রামের জয়নাল মল্লিকের ছেলে।

মামলা সুত্রে জানা যায়, মাদারীপুর আলিফ রাইচ মিল থেকে চাল নিয়ে শিবচর দিয়ে আসার সময় মঠেরবাজার এলাকায় ট্রাক রেখে একটি দোকানে নাস্তা খেতে গেলে একটি ইজি বাইকের সাথে ধাক্কা লাগে ট্রাকের। এরপর স্থানীদের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায় ট্রাক ড্রাইভার এনায়েতকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি ও পিটিয়ে আহত করে ফেলে রাখা হয়।

পরে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক ড্রাইভার এনায়েতেকে উদ্ধার করে সদও হাসাপাতালে নিয়ে আসার আগেই সে মারা যায়। এরপর সদর থানায় মামলার ৫দিন হলেও এখনোও প্রধান আসামি রাজিব মুন্সিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মেহেদী হাসান, মাদারীপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button