দেশবাংলা

শিবচরের দূর্গম চরে ইলিশ বেচা-কেনা!

প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দূর্গম চরে পদ্মার পাড়ে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনটি ছিল ইলিশ বিক্রির হাট।

সারাদিনে ধরা পড়া ইলিশ সাথে সাথেই তীরে এনে বিক্রি করে দেয়া হয়। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪শত/৫শত টাকায়। এছাড়া একটু ছোট সাইজের মাছ অনেকটাই পানির দামে পাওয়া যাচ্ছে। নদীর পাড়ে এনে একহালি, দুই হালি করে একসাথে বিক্রি করা হচ্ছে এসব ইলিশ মাছ।

জানা যায় ইলিশের প্রজনন মৌসুম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এখন ২২ দিনের জন্য বন্ধ থাকছে ইলিশ আহরণ। এই সময়ে কিছু অসাধু জেলেদের তৎপরতা বেড়ে যায়। একই সাথে ক্রেতাদেরও যেন উৎসব! সস্তায় বড় সাইজের ইলিশের লোভ ছাড়া যেন বড় দায়!

১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিত পদ্মানদীসহ জেলার হাটবাজারগুলোতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলছে।

গত ৬ দিনে ইলিশ ধরার দায়ে পদ্মানদীর শিবচর অংশে অভিযান চালিয়ে ৬৯ জন জেলেকে আটক করে মাদারীপুর জেলা প্রশাসণের ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএ) প্রমথ রঞ্জন ঘটক, সহকারী কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেকর্ডরুম) মো. মাহাবুবল হক, সহকারী কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত) আনোয়ার হোসেন এর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়।

এছাড়া ধ্বংস করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার মিটার ইলিশ ধরার জাল। যার আনুমানিক মূল্য ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এসময় জরিমানা আদায় করা হয় ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, জব্দ করা হয় ১শত ৪০ পিচ ইলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মঙ্গলবার শিবচর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচন থাকার কারণে প্রশাসন ব্যস্ত থাকবে নির্বাচন নিয়ে। এই ধারনা থেকে অন্যান্য দিনের চেয়ে আজকে কেনা-বেঁচা বেশি হয়েছে। আর দিনে পদ্মায় স্বাভাবিক ভাবেই মাছ শিকার করতে পেরেছে জেলেরা। নদীর পাড়ে এনে বিক্রিও করেছে প্রচুর।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়,’উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের শেষ সীমানায় নদীর পাড়ে অসাধু জেলেরা পদ্মানদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা ইলিশ বিক্রি করে। শিবচরসহ দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সস্তায় ইলিশ কিনতে দূর্গম চরাঞ্চলে আসে। বিস্তৃর্ণ চর এলাকা থেকে পায়ে হেটে আবার ট্রলার নিয়েও মাছ কিনতে আসে সাধারন মানুষেরা।

স্থানীয়রা জানান,’গত মৌসুম থেকেই ইলিশ সংরক্ষনে প্রশাসনের অভিযান রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এবারও প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই জেলেদের আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরপরও কেউ কেউ গোপনে মাছ ধরছে। এক শ্রেণির ক্রেতারা তা কিনতে দূর্গম চর এলাকায় আসছে।’

জেলা মৎস কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন,’আমাদের অভিযান নিয়মিত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার শিবচর উপজেলায় উপ-নির্বাচন থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তা স্বাভাবিক ভাবেই ব্যস্ত রয়েছেন। এ জন্য মঙ্গলবার দিনে শিবচরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে রাত থেকে অভিযান চলবে পদ্মায়।’

তিনি আরো বলেন,’আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের টিম, পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পদ্মানদীর দূর্গম এলাকাতেও অভিযানে অংশ নিই। যে সকল এলাকায় মাছ বিক্রির অভিযোগ পাই সেখানেও আমাদের তৎপরতা থাকে। এরপরও কিছু অসাধু জেলেরা গোপন মাছ ধরে বিক্রি করে থাকে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ইলিশ সংরক্ষণে। পুরো মৌসুমে আমাদের অভিযান জোড়ালো ভাবেই চলবে।’

মাদারীপুর সহকারী কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত) আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিনই জেলার শিবচরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও আমার জেলার তিনজন কর্মকর্তা অভিযানে অংশগ্রহন করি।

যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ভ্রামমান আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমান দিচ্ছি তাছাড়া যে মাছ গুলো উদ্ধার করা হয় সেগুলো বিভিন্ন ইতামিখানা ও মাদ্রাসায় দিয়ে দেয়া হয়।

মেহেদী হাসান, মাদারীপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button