দেশবাংলা

কালীগঞ্জে গলায় গামছা পেঁচিয়ে বৃদ্ধকে হত্যা চেষ্টা

তিন ছেলে ও সাত কন্যা সন্তানের পিতা সুভাষ দেউরি (৮৮)। বর্তমানে ছেলে-মেয়েরা সবাই স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত। ১০ সন্তানের ৭ জনই থাকেন দেশের বাইরে। বাকী ৩ সন্তান ঢাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সুভাষ দেউরি এলাকায় সুভাষ ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি জীবনের স্বর্ণালী সময় পার করেছেন পল্লী চিকিৎসা করে।

এখন তিনি অবসর সময় পার করছেন। মাঝখানে এক সন্তান তাকে আমেরিকায় নিয়ে গেলেও দেশের টানে আবার চলে এসেছেন। তাই বাড়িতে একা একা সময় পার করেন। তবে তাকে দেখাশোনার জন্য সন্তানরা দুইজন কেয়ারটেকার নিয়োগ করেছেন। উদ্দেশ্য তাদের বাবা গ্রামে থাকলেও সব সময় ভাল থাকুক।

এতক্ষণ যার কথা বলছিলাম তিনি গাজীপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের জয়রামবের গ্রামের বয়োবৃদ্ধ পল্লী চিকিৎসক সুভাষ দেউরি। যিনি সারাজীবন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সেবা করেছেন। তিনি ওই বয়োবৃদ্ধ মানুষটিকে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মুখে গামছা গুছে ও গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

আর এমন অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর জামাই বিমল সিকদার (৫০) নামের এক মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে রোববার (০১ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন পল্লী চিকিৎসক সুভাষ দেউরির ছোট ছেলে অলড্রিন দেউরি। এর আগে অলড্রিন দেউরি কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক।

অলড্রিন দেউরি জানান, গত ২৯ অক্টোবর তার বাবা বাড়িতে একা ছিলেন। পূজার কারণে বাড়ির দুই কেয়ারটেকার ছুটিতে ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে বিমল অলড্রিনদের বাড়িতে যায় এবং কিছুক্ষণ তার বাবার সাথে বসে টিভি দেখে। কিন্তু তার বাবা ঘুমিয়ে পড়বে বলে তাকে চলে যেতে বলে টিভি বন্ধ করে দেয়।

এ সময় বিমল উঠে পিছন থেকে সুভাষ দেউরিকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে এলোপাতাড়ি লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং তার হাতে থাকা গামছার এক অংশ মুখের ভেতর ও বাকী অংশ গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায় মাদক কারবারী বিমল।

এ সময় সুভাষের ঘোঙ্গানির শব্দে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিমল দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং থানায় অভিযোগ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বয়োবৃদ্ধ পল্লী চিকিৎসক সুভাষ দেউরির ডান হাত, ডান চোখের নিচে, বুকে, বাহুতে এবং কোমরের নিচে নির্যাতনের চিহৃ রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিমল তাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্ঠা করে। এ সময় তার কাছে থাকা ১০/১২ হাজার টাকাসহ মানিব্যাগটিও নিয়ে যায়।

তবে কেন তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্তানরা সবাই বাহিরে, বাড়ীতে একা থাকি। বাড়িতে আবাদ করা নানা ফসলাদি বিমল চুরি করে নিয়ে যায়। তাছাড়া আমাকে মেরে ফেললে ভেবেছিল আমার সম্পত্তি সে ভোগ করবে। সে একজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মিজানুল হক বলেন, পল্লী চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রফিক সরকার, কালীগঞ্জ, গাজীপুর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button