দেশবাংলা

সরকারী কর্মকর্তাকে মারধর: ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

পটুয়াখালীর বাউফলে এক সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হাওলাদারকে (৫০) মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পরে শাহিনকে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ১১ অক্টোবর দেশের অন্যান্য দৈনিকে ১০টাকা কেজি চালের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ” এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পেয়ে শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায়ও তিনি কারাভোগ করেছিলেন।

গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বগা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মহিববুল্লাহর নেতৃত্বে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহাযতায় বরিশাল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা উল্লেখ করা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কনকদিয়া বাজারে যান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা। ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে কথা শোনার জন্য ডাকেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন। ডেকে নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের নাম ধরে গালাগাল করেন। আনছার উদ্দিন এর প্রতিবাদ করলে তাকে প্রকাশ্যে শাহিন মারধর করেন।

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ওই রাতেই আনছার উদ্দিন মোল্লা বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা করেন। বাউফল তানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,‘তাঁকে (শাহিন) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

এদিকে শাহিনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানোর খবরে কনকদিয়া এলাকায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। কারাগারের পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তের মধ্যে চেয়ারম্যান শাহিনের নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন তার কথার প্রতিবাদ করছেন।

এতে শাহিন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রকাশ্যে ওই ব্যক্তিকে তার স্বজনদের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করছেন আর মারছেন। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বন বিভাগের এক কর্মচারীকে প্রকাশ্যে মেরে আহত করেছেন। তাকে বাঁচাতে একইউপি সদস্য এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালে শাহিনের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গুলি করে টাকা ছিনতাইয়ের দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন শাহিন। ওই মামলায় মিজানুর বেকসুর খালাস পান। কনকদিয়া বাজার এলাকার মো. জাকির হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তি বলেন,‘তার কথা না শুনলেই এবং তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলেই তিনি নিজ হাতে মারধর করেন। আমাকেও তুলে নিয়ে দুইবার মারধর করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের সাবেক সেনা সদস্য জাকির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর সরদার, মো. সেলিম মোল্লা, মো. বাদল মল্লিক, আবদুর রাজ্জাক সিকদার, মো. হাবিবুর রহমানসহ অর্ধশত মানুষ তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button