দেশবাংলা

লক্ষ্মীপুরে আইনজীবির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী মুনছুর আহম্মদ দুলালের বিরুদ্ধে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার প্রবাসী নুর নবীর কাছ থেকে বিভিন্ন মামলার কথা বলে আইনজীবী এ টাকা আত্মসাত করে।

কিন্তু নুর নবী জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কোথাও কোন মামলা নেই। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ভূক্তভোগী নুর নবী তার টাকা উদ্ধারসহ এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

এর আগে গত ১৯ জুলাই নুরনবী লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবর দুলালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ আগস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান অভিযুক্ত দুলালের উপস্থিতিতে নুরনবীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এসময় তিনি অভিযুক্তকে নুরনবীর টাকা ফেরত দিতে বলে। কিন্তু অভিযুক্ত আইনজীবী উত্তেজিত হয়ে চলে যায়। পরে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের বরাবর ডাকযোগে দুলালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাঠান নুরনবী।

অভিযোগ সূত্র জানায়, নুর নবী রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রামের বাসিন্দা ও দুবাই প্রবাসী ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে দেশে আসেন। একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ ঢালীর ছেলে আনসার উল্যার সঙ্গে নুরনবীর পারিবারিক বিরোধ ছিলো। পরে ওই বিরোধ মীমাংসাও হয়। এদিকে নুর নবী ও তার স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। এটিকে পুঁজি করে মীমাংসার কথা বলে আনসার উল্যা তাকে আইনজীবী দুলালের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

সেখানে দুলাল ও আনসার উল্যা ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে আইনজীবী জানায়, নুরনবীর ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা রয়েছে। এটি শুনে নুরনবী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে নুরনবী ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর দুলালকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়। পরে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি ওই মামলার একটি অব্যহতি পত্র নুরনবীর বাড়িতে আনসার উল্যা পৌঁছে দেয়। কিন্তু ওই পত্রটি রায়পুর থানার ইনচার্জ বরাবর লেখা ছিল।

এর কিছুদিন পরই আইনজীবী দুলাল জানায় বারিশাল আদালত থেকে নুরনবীর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যা মামলা লক্ষ্মীপুর আদালতে হস্তান্তর হয়েছে। এজন্য ৫ লাখ টাকা দাবি করে আইনজীবী। এটি নিস্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আইনজীবীকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিছুদিন পর ফের আইনজীবী ফোন দিয়ে নুরনবীকে জানায় তার (নুরনবী) বিরুদ্ধে চান্দিনা থানা থেকে আরও একটি মামলা এসেছে।

এ মামলার নিস্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ৪ মার্চ ফের ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়েছে আইনজীবী। পরবর্তীতে একটি জমি বন্টনের মামলার রায় করে দিবে বলে আইনজীবী ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন মামলার নকল, রায় কিংবা জামিনের কপিও দেখাতে পারেনি আইনজীবী। প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দুলাল ও আনসার উল্যা আত্মসাত করেছে বলে জানিয়েছে নুরনবী।

অভিযুক্ত আইনজীবী মুনছুর আহম্মদ দুলাল জানান, নুরনবী আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেছে। এনিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছে আনসার উল্যা চৌকিদারকে নিয়ে বসে নুরনবীর ঘটনাটি মীমাংসা করতে। তবে নুরনবীর বিরুদ্ধে মামলাগুলো সত্য।

জামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button