আন্তর্জাতিকনির্বাচনযুক্তরাষ্ট্র

ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

ডেমোক্র্যাটরা কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচন চুরির চেষ্টা করছে। আইনি পন্থায় ভোট গণনা করা হলে আমরা সহজেই বিজয়ী হব। যদি বেআইনি পন্থায় গণনা হয়, তাহলে আমাদের কাছ থেকে নির্বাচন চুরি করা হচ্ছে। ডাকযোগের ভোট পুনরায় গণনারও দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনি সমাধানের পথে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

রিপাবলিকান পার্টির এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দাবি, ‘ওই সব অঙ্গরাজ্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট পাঠানো হয়েছে, বেআইনি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে, গোপনে ভোট গণনা হয়েছে, ভোট গণনা কেন্দ্রে রিপাবলিকান দলের পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে আমরা অনেক ভোটে এগিয়ে ছিলাম, কিন্তু পরে রহস্যজনকভাবে অনেক নতুন ভোট গণনা শুরু হয়।তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে প্রকাশিত জনমত জরিপের তীব্র নিন্দা করে বলেন যে, তাঁর সমর্থকদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে জো বাইডেনকে এগিয়ে দেখিয়ে এসব জরিপ প্রচার করা হয়েছিল।

নির্বাচনের আগে বেশির ভাগ জরিপে দেখা যায়, বাইডেন দেশব্যাপী এগিয়ে। অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিপুল বিজয় হবে।

এখনো জয়-পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও গন্তব্যের খুব কাছেই পৌঁছে গেছেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা পাল্টে দিয়ে লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডিই হচ্ছে।

৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার মধ্যে নেভাদা, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও আলাস্কার ভোটের ফলাফল এখনো মেলেনি। এগুলোতে এখনো ভোট গণনা চলছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় ২০টি, নর্থ ক্যারোলাইনায় ১৫টি, জর্জিয়ায় ১৬টি, আলাস্কায় তিনটি ও নেভাদায় ছয়টি মহামূল্যবান ইলেকটোরাল ভোট আছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, নেভাদায় ৮৪ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে, যার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বাইডেন। আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। এখানে জয় পেলে আকাঙ্ক্ষিত ছয়টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটই হতে পারে বাইডেনের হোয়াইট হাউসে যাওয়ার চাবিকাঠি।

অন্যদিকে, আবারও প্রেসিডেন্ট হতে হলে ট্রাম্পকে নেভাদাসহ পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের সব (৬০টি) ইলেকটোরাল ভোটই পেতে হবে।

এদিকে, পপুলার ভোটেও পিছিয়ে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পেয়েছেন ছয় কোটি ৯৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩০১ ভোট। আর বাইডেন পেয়েছেন সাত কোটি ৩৪ লাখ ১৪ হাজার ৯৪ ভোট।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button