দেশবাংলা

বন্ধ হচ্ছে না ডুমাইনে মাদক কেনাবেচা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের গড়াই খেয়া ঘাটে প্রতিদিনই বসছে জুয়ার আসর।প্রচলিত আছে এই জুয়ার আসরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার জুয়া চলে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অবাধে চলছে মাদকের কেনাবেচা। এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের প্রকাশ্য বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।কেউ কিছু বললে তাদের ওপর নেমে আসে খড়গ।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, ডুমাইন গ্রামে দিনরাত চলে মাদক কারবারিদের ব্যবসা। মাদক সেবীদের নিরাপদ স্থান হওয়ায় নির্বিঘ্নে চলে তাদের ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাফেনটা ট্যাবলেট, গাঁজা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনের কাজ।

তবে মাদক সেবীদের আনাগোনা বেশী লক্ষ্য করা যায় বিকেল থেতে গভীর রাত পর্যন্ত। রাত যতবাড়ে মাদক সেবীদের জন্য ডুমাইন গ্রাম পরিণত হয় অভয়ারণ্য।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে, এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা যায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্চুক জানায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীদের মধ্যে রয়েছে,আলী মোল্লাহ, জাফর সেক, সাইফুল মোল্লাহ, আমিরুল, শিমুলসহ আন্তত ২০ জন। এরা মাদকের টাকায় এলাকায় আলিশান বাড়ি গাড়ির মালিক হয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদক বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা মাঝে মধ্যে কৌশল পরিবর্তন করে মাদক বিক্রয়ের স্থান পরিবর্তন করে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এছাড়াও করোনার কারণে ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানকার কোমলমতি শিক্ষর্থীদের হাতেও ইয়াবা তুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে করা হচ্ছে মাদক ব্যবসা।

আর এসব মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে থকেন গ্রামের প্রভাবশালী কিছু দুষ্ঠ লোক।তাদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে মাদক ব্যবসা চালালে এলাকার সাধারন মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না।

মাঝেমধ্যে পুলিশে সদস্যরা এসে দু-একজনকে আটক করলেও গডফাদাররা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একজন সচেতন ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বলেও অজ্ঞাত কারণে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন জোড়ালো ব্যবন্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই বন্ধও হচ্ছে না তাদের মাদক ব্যবসা।

বেশ কয়েকদিন পূর্বে মোবাইলে বিকাশ প্রতারণার জন্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হন গ্রামের মৃত জাফর মোল্লার ছেলে সালমান মোল্লা, মৃত কালা মোল্লার ছেলে টিটো মোল্লাসহ ৯জন। তারা এখন জেলহাজতে রয়েছে।ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রাম হলো বিকাশ প্রতারণার হেড অফিস শিরোনামে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবরটি প্রচারিত হয়।তখন এটা ছিল টক অব দ্য কান্ট্রি।

তাই ডুমাইন গ্রামের এসব মাদকের ব্যাবসা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।তাদের অভিযোগ এ সমস্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং বিকাশ প্রতারকদের গোপনে শেল্টার দিয়ে থাকে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।

তারা যখন পুলিশের হাতে আটক হয় তখন তাদেরকে রাজনৈতিককর্মী পরিচয় দিয়ে তদবির করে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে করে।মামলা হলে কোর্টে দৌড়াদৌড়ি করা থেকে শুরু করে উকিল ধরে তাদেরকে জামিনের ব্যবস্থা করেন এই গডফাদারেরা।বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা।

এলাকাবাসী জানান,গ্রামের তিন থেকে চারজন গডফাদার রয়েছে।তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই মাদক ব্যবসা,মোবাইল টোপ,বিকাশ প্রতারণাসহ সকল অপকর্ম নির্মূল করা সম্ভব।

একটা সময় ডুমাইন গ্রাম ছিল ফরিদপুর জেলার মধ্যে শিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। শিক্ষা-দীক্ষা,চাকুরী সবকিছুতে এ গ্রামের অনেক সুনাম ছিল।বহু ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,বিসিএস ক্যাডার অফিসার,আর্মি অফিসার এর জন্ম হয়েছে এই গ্রামে। কিন্তু গত কয়েক বছরে অত্র গ্রামে মাদক ছড়িয়ে পরার পর তরুন সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।গ্রামের ঐতিহ্য হারিয়ে যায়।

মধুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলা ও পৌর সদরে যারা মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন পরিচয়কেই তাকে রক্ষা করতে পারেনি।তিনি বলেন,নেশাখোর ও কারবারীদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। অনেককে জেলে বসে প্রহর গুনতে হচ্ছে।সমগ্র উপজেলাটাই মাদক জুয়া মুক্ত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি জানিয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে বিট পুলিশিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সমাজ থেকে চিরতরে অপরাধ নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চুর বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে অঙ্গীকার করেছেন দেশ থেকে জাঙ্গীবাদ মাদক ও জুয়া নির্মূলের।

তাঁর অনুসারী হিসেবে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক ও জুয়ারীদের একটা তালিকা করে পুলিশ প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে। মধুখালী উপজেলাকেও মাদক জুয়া সন্ত্রাসমুক্ত করা এবং কোন মাদক ব্যবসায়ী, জুয়ারী, সন্ত্রাসী ও ধর্ষণকারীকে ছাড় দেয়া হবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button