দেশবাংলা

গীতিকবি রাধারমণ দত্তের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

বৈষ্ণব কবি খ্যাত রাধারমণ দত্তের ১০৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জের জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। নিজ জম্মস্থানে ১০ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাধারমন মিলনায়তনে মৃত্যু বাষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে, শিক্ষক অনন্ত পালের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন দেব, বক্তব্য রাখেন শিল্প কলা শিক্ষক বিজয় দেব, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন,উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার অরুপ রায়, প্রমুখ। জগন্নাথপুর শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী বৃন্দ গান পরিবেশন করেন। এর মধ্যদিয়ে মৃত্যু বাষিকী পালিত হয়েছে।

রাধারমণ দও কিশোর বয়সে পিতৃহারা হওয়ায় জগতের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং সৃষ্টিকর্তার স্বরূপ অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করেন রাধারমন। এক পর্যায়ে সাধক রঘুনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব ও দীক্ষা গ্রহণ করেন। পরে তিনি শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈব ও সহজিয়া মতবাদে লেখাপড়া করে সহজিয়া মতে সাধন-ভজন শুরু করেন। শ্রীকৃষ্ণভাবে বিভোর হয়ে রাধা-কৃষ্ণর প্রেম নিয়ে গান রচনা করেন।

৮২ বছর বয়সে ১৯১৫ সালের ১০ নভেম্বর পরলোক গমন করেন তিনি। বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী রাধারমনকে জগন্নাথপুর পৌর সভার কেশবপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। বিভিন্ন সংগ্রাহকদের মতে, রাধারমণের গানের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি।

‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো, আজ আমার প্রাণনাথ আসিতে পারে/কিংবা জবা কুসুম সন্ধ্যামালী আনরে তুলিয়া মনোরঙ্গে সাজাও কুঞ্জ সব সখি মিলিয়া, মুর্শিদ বলি নৌকা ছাড়ো তুফান দেখি ভয় করিও না, মুর্শিদ নামে ভাসালে তরী অকূলে ডুবিবে না/দেখলাম দেশের এই দুর্দশা, ঘরে ঘরে চোরের বাসা’ এমন গান শুনলেই বোঝা যাবে রাধারমণ দত্তের সঙ্গীত বিচিত্র বিষয়ে পরিপূর্ণ।

এছাড়াও প্রার্থনা তো ছিলই, আত্মতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব এবং পরমাত্মাবিষয়ক সঙ্গীত ছাড়াও তার স্বদেশ প্রেমেরও অনেক গান রয়েছে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ব্যতিক্রম হচ্ছে ধামাইল গান। রাধারমণের গানে শব্দপ্রয়োগের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। আল্লাহ-ঈশ্বরে যেমন তিনি পার্থক্য দেখেননি, গুরু এবং মুর্শিদ শব্দের পার্থক্য দেখাননি।

বৈষ্ণবকবি রাধারমণ দত্তের প্রতিটি সৃষ্টিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার সকল সৃষ্টি অবিকৃতভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। রাধারমণ দত্তের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। সেই সম্পত্তি আইনী প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে রাধারমণ কমপ্লেক্সের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রাধারমণের স্মৃতি রক্ষায় জগন্নাথপুর শিল্পকলা একাডেমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।।।

গোবিন্দ দেব, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button