দেশবাংলা

ভুয়া এনজিও’র নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে গ্রাহকদের কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও “জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ভুয়া এনজিও।

স্বল্প সময়ে গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ও পণ্য দেওয়ার নামে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পলিয়ে গেছে এনজিওটির মূলহোতা। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভূল্লী বাজার নামক স্থানে। এ সংবাদ শুনে “জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ” এর অফিসের সামনে জড়ো হন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভূল্লী বাজারের দক্ষিণ পাশে ব্রাক অফিস সংলগ্ন দেবত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা এ্যাড. জাকির হোসেন সুজন এর বাড়ীতে গত ৫ই নভেম্বর অপরিচিত এক ব্যক্তি অফিস করার নামে বাড়ীটি ভাড়া নেয়।

এরপর সেখানে জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে রাতের আঁধারে একটি ভুয়া অফিস খুলে বসেন প্রতারক। এ সময় অফিস পরিচালনা করার জন্য নিয়োগ দেন আরিফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক যুবক ও দুই মেয়েকে। কয়েকদিন অফিস চলার পর প্রতারকে কার্যকলাপে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এই সুযোগে কয়েক দিনের মাথায় ভূল্লীর বালিয়া, বড়গাঁও, শুকানপুকুরী ও আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে
ঋণ দেওয়ার নামে সঞ্চয় হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক।

বগুলা ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি আল-মামুন বলেন, গত কয়েকদিন আগে অপরিচিত এক ব্যক্তি এ্যাড. সুজন এর বাড়ীতে অফিস করার নামে আমার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা দামের দুটি ক্যাশ টেবিল ও ১২ হাজার টাকা দামের একটি ওয়াল সুকেজ মাত্র ৭ হাজার টাকা জমা দিয়ে মালামাল নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা পরবর্তী সময়ে দেওয়ার কথা বলে।

ঐই অফিসে কাজ করার জন্য আমার বোনকে নিয়োগ দেন। এখন শুনি সে উধাও। আমি গরিব মানুষ আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমি এর বিচার চাই। আরেক ভুক্তভোগী বোর্ড অফিস গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ঐ প্রতারক গত ৪ দিন আগে আমাদের গ্রামে এসে স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ও পণ্য দেওয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেয়। এখন শুনি এটি ভুয়া এনজিও। আমরা এই প্রতারককে খুঁজে বের করে তার দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তি চাই।

বড়গাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজ বলেন, আমরা সহজ সরল মনে জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ থেকে ঋণ পাওয়ার আশায় বেশ কয়েকজন কয়েক হাজার টাকা সঞ্চয় দেই। সেই এনজিও থেকে আমাদের কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা হয় কিন্তু এখন দেখি সব ভুয়া।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, এ্যাড. সুজন কীভাবে কোন কাগজ পত্র ছাড়াই অপরিচিত ঐ ব্যক্তিকে অফিস করার জন্য বাড়ী ভাড়া দিলো এবং কীভাবে অফিস এর কার্যক্রম পরিচালনা হলো। এর দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।

বাড়ীর মালিক এ্যাড. জাকির হোসেন সুজন বলেন, অপরিচিত এক ব্যক্তি হঠাৎ করে এসে বলেন তার কয়েকটি রুম লাগবে অফিস করার জন্য। সে আমার শর্তে রাজি হলে তাকে আমি বলি আপনি আপনার মালামাল রাখতে পারেন কিন্তু ডিট না হওয়া পর্যন্ত কোন কার্যক্রম চালাতে পারবেন না। এর মধ্যে আমি ঢাকায় গেলে শুনি সেই ব্যক্তিটি জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে উধাও।

এ বিষয়ে ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, বাড়ীর মালিক সুজন আমাকে বিষয়টি অবগত করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, জনকল্যাণ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া এনজিও টাকা হাতিয়ে বিষয় কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামুনুর রশিদ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button