
রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ৮ বছর আজ। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় পোশাক কারখানাটির নয়তলা ভবনের ছয়তলা ভস্মীভূত হয়ে যায়। সরাসরি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান ১০১ জন পোষাক শ্রমিক।
এছাড়াও আগুন থেকে রেহাই পেতে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও ১০ জনসহ মোট ১১৭ জনের মৃত্যু হয়। ৩ শতাধিক শ্রমিক আহতও হন। সেই ঘটনার স্মৃতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পিছু ছাড়েনি তেমনি আট বছরেও এখনো কোন ক্ষতিপূরণ পাননি অনেকেই। বেকার হয়ে অনেকেই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
এঘটনায় কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে জামিনে রয়েছেন তিনি।ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ ক্ষতিপূরণের দাবি আদায়ে সরকার, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-কে পদক্ষেপ নেয়ার বারবার দাবি জানিয়েছেন, শ্রমিক নেতারা।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে হয়। ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে আগুন লাগে। নয় তলা ভবনের নিচতলায় আগুন লেগে মুহূর্তেই আগুনের ধোঁয়া ও আগুন সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে থাকে। যার কারণে ভবনের উপর তলার শ্রমিকরা আটকা পড়ে যান।
কারখানার বিপুল পরিমাণ ফ্যাব্রিক এবং সুতা থাকার কারণে আগুন দ্রুত অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে, যা অগ্নিনির্বাপকের কাজকে জটিল করে। পরদিন রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ওই ঘটনায় ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে সবচেয়ে বেশি ৬৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়, চতুর্থ তলায় ২১ এবং পঞ্চম তলায় ১০টি।
তাজরীন ফ্যাশনস কারখানাটি ২০০৯ সালে চালু হয়। কারখানাটিতে প্রায় ১ হাজার ৬৩০ জন কাজ করতেন। কারখানাটি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য তৈরি টি-শার্ট, পোলো শার্ট এবং জ্যাকেট তৈরি করত, যাদের মধ্যে রয়েছে মার্কিন মেরিনস, ওলন্দাজ কোম্পানি সি এন্ড এ, মার্কিন কোম্পানি ওয়ালমার্ট এবং হংকংভিত্তিক কোম্পানি লি অ্যান্ড ফুং।
এই কারখানাটি বাংলাদেশের অন্যতম পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তুবা গ্রুপের অংশ ছিল যারা জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং নেদারল্যান্ডসে পোশাক রপ্তানি করত। তাজরীন ফ্যাশনসের প্রধান ক্রেতা ছিল ওয়ালমার্ট, কারেফোর এবং আইকিয়া।



