দেশবাংলা

৪৯ বছরেও সরকারি সাহায্য পায়নি শহীদ পরিবারটি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের সালদিগা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধের সময় শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্য প্রায় ৪৯ বছরের সরকারী সাহায্য পায় নাই। পাকহানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হওয়া স্বামী স্মৃতি নিয়ে ১১৫ বছর ধরে কষ্টে দিনপাত করছেন করফুল নেছা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের সালদিগা গ্রামে ১৯৭১ সালে ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকহানাদার বাহিনীর সালদিগা পশ্চিমপাঁড়া মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। পাক হানাদার বাহিরি আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলে পিছু হটলেও মুক্তি বাহিনিকে না পেয়ে স্থানীয় সালদিগা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ায় হাজী কলমদর মিয়ার বাড়িতে গোয়াসপুর হতে মিশিনগান দ্বারা গুলি বর্ষণ করে এতে কলমদর মিয়া বড় ভাই শহীদ উসমান উল্লা তিনির চাচা মনোহর উল্লা হাকহানাদারের গুলিতে মৃত্যু বরণ করেন। যুদ্ধকালিন সময়ে গোপরাপুর স্কুলে মুক্তিবাহিনির ক্যাম্প ছিল।

মুক্তিবাহিরির আঞ্চলিক দায়িত্বে থাকা আব্দুল নুর মাস্টার স্বাধীনতা পক্ষে শক্তি হওয়ায় কলমদর মিয়ার বাড়িতে এসে মুক্তিবাহিনিদের নিয়ে প্রায় সময় খাওয়া দাওয়া করতেন। কলমদর মিয়া ভাগনা ফারুক মিয়া মুক্তিযোদ্ধে ছিলেন বিধায় তাহাদের প্রতি পাক বাহিনির আক্রশ ছিল।

তাদের বাড়িতে হামলা চালায় পাক হানাদার বাহিনি, তাদের গুলিতে উসমান উল্লাহ ও মনহর উল্লাহ শহিদ হন। বেঁচে যান তার ছোট হাজী কলমদর মিয়া। পরে পাক হানাদার বাহিনি চলে গেলে শহীদ উসমান উল্লাহ ও শহিদ মনহর উল্লাকে গ্রামে দাপন করা হয়। প্রায় ৫০ বছর হয়ে যাচ্ছে এখনো স্মৃতি বিজড়িত স্থানে বসবাস করছেন তাঁর স্ত্রী করফুল নেছা, স্বামী পরিত্যেক্ত অসহায় মেয়ে গুলনেহার বেগম ও শহিদ মনফর উল্লাহ একমাত্র নাতিন পারভিন বেগম। প্রত্যেক দিন স্মৃতি বলে যান সবার কাছে কিন্তু এই অসহায় পরিবারের দিকে কেউ থাকায় না।

শহীদ ওসমান উল্লাহ স্ত্রী করফুল নেছা জানান, বাবারে দেশ স্বাধীন করতে মুক্তি বাহিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিল আমরা তাদের আশ্রয় দান করায় আমার স্বামীকে তারা গুলি হত্যা করে। আমার ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনপাত করতেছি। আজ আমি বড় অসহায় বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধের সহ পক্ষে থাকার পরও এখনো আমাদের পরিবারের দিকে কেউ নজর দেওয়া। বতর্মান সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী সহ জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা গোয়াসপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী কৃষ্ণ জানান, সেই সময়ে গোপরাপুর স্কুলে মুক্তিবাহিরি ক্যাম্প আমিও ছিলাম। গোপরাপুরের পাশে সালদিগা গ্রাম থাকায় স্বাধীনতা পক্ষে কাজ করায় ও মুক্তিবাহিনিদের আশ্রয় দেওয়া তাদের উপর হামলা চালানো হয়। আজ করফুল নেছা পরিবার অসহায় তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া সরকার সহ সকলের প্রতি আহবান জানান।

গোবিন্দ দেব, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button