
৯ ডিসেম্বর ১৯৭১। বাংলার মুক্তি সংগ্রামের এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় চট্টগ্রামের নাজিরহাট, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, চাদপুর, নেত্রকোনাসহ দেশের আরো কিছু অঞ্চল। স্বাধীন এসব ভূখণ্ডে উড়তে থাকে বিজয়ের পতাকা। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সামনে তখন শুধু ঢাকা দখলের লড়াই। সবদিকে দিয়ে মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হলে হানাদার বাহিনীর প্রবেশ রুদ্ধ হয়ে যায়।
একাত্তরের এদিন সকালে হানাদার বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের সদর দফতর ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো জেনারেল নিয়াজী স্বীকার করেন, পরিস্থিতি নিদারুণ সংকটপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার জন্য পাকিস্তানের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। আজকের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সন তার সপ্তম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দিতে নির্দেশ দেন।
এর আগে কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিবাহিনীর হামলায় টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। সেদিনের সেই গৌরবোজ্জ্বল দিনের বর্ণনা দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী।
মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সামনে শুধু ঢাকা দখলের লড়াই। সবদিকে দিয়ে মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়। এতে রুদ্ধ হয়ে যায় বাইরে থেকে হানাদার বাহিনীর প্রবেশপথ। এদিকে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহরের চারিদিকে অবস্থান নেয় মুক্তিবাহিনী। তাদের এ দেশীয় এজেন্ট আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ হয় মুক্তিবাহিনীর।
মিত্রবাহিনী একে একে চট্টগ্রামের নাজিরহাট, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, চাঁদপুর ও নেত্রকোনা দখলে নিয়ে ওড়াতে থাকে বিজয়ের পতাকা।



