খেলাধুলাবাংলাদেশ

সূবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি

বিজয়ের ৫০ বছরে পা দিলো বাংলাদেশ। দেশের এই সুবর্ণ জয়ন্তীতে, পেছন ফিরে তাকালে ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যের বেশিরভাগই ক্রিকেটের হাত ধরে।  লম্বা এই সময়ে অন্য ডিসিপ্লিনে কতোটা এগোলো দেশের ক্রীড়াঙ্গন? জবাবে পাওয়ার চেয়ে না পাওয়ার গল্পটাই বেশি। বিস্তারিত মোহাম্মদ হাসিবের ডেস্ক রিপোর্টে।

দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলায় দেশের ক্রীড়াঙ্গণে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নিয়াজ মোর্শেদ, রোমান সানা, মাবিয়া আক্তারদের মতো ক্রীড়াবিদরা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত নৈপুন্যে উঁচিয়ে ধরেছেন লাল সবুজের পতাকা, ঠিক তেমনি যুব বিশ্বকাপ, নারী এশিয়া কাপ জিতে দলগত পারফরম্যান্সেও উজ্বল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের একেকটা বিজয় পুরো দেশকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করে। ফুটবলের একটা জয়ের আশায় প্রার্থনারত থাকে পুরো দেশ।

ফুটবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গেলো এক দশকে ছেলেদের চেয়ে বেশি গর্বিত করেছে বাংলার মেয়েরা। পুরুষ দল সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন আর এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জেতে একবার। বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট-ফুটবল বাদে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চেনা মুখ হাতে গোণা। গলফে সিদ্দিকুর রহমান, জিতেছেন এশিয়ান ট্যুর।  আর্চারিতে এস এ গেমসে রোমান সানা গলায় ঝোলান দশ স্বর্ণের সব ক’টিই। ২০১৪ এসএ গেমসে স্বর্ণ জিতে মাবিয়ার কান্না, হৃদয় ছুঁয়েছে গোটা বাঙালি জাতির।

তবে, দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে সাফল্য ছিটেফোঁটা। যা এসেছে শ্যুটারদের কাছ থেকেই। ১৯৯০ সাল থেকে শুরু, ১৯৯৭, ২০১০, ১৪ কিংবা ১৮ শ্যুটিংয়ে কমনওয়েলথে পদক এসেছে বার বার।  মাদার অব অল স্পোর্টস অ্যাথলেটিক্স তার জীর্ণদশা দেখছে, ট্র্যাকের মতোই।

তবে বেসুরো গলায় ভিন্ন সুর মিলিয়েছে বাংলার যুবারা। আইসিসি যুব বিশ্বকাপের বর্তমান ট্রফিটা যে আকবর হোসেনদেরই। ৫০ বছরের ইতিহাসে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতেই হবে।  তবে ফুটবলে গর্বের জায়গা কমে বেড়েছে আক্ষেপ। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের জমজমাট ক্লাব ফুটবলটা কোথায় যে কীভাবে উড়ে গেলো, সেই তর্ক-বিতর্কের মাঝেই খাবি খাচ্ছে দেশের ফুটবল।

কথায় আছে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ক্রীড়াঙ্গনের সুধীজনরা মনে করেন ৫০ বছরে না পাওয়ার গল্পগুলো মুছে ফেলে, সামনে এগোতে সঠিক পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতার সাথে থাকা চাই সাফল্যের তীব্র ক্ষুধা।

বাংলাটিভি/শহীদ

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button