রাজনীতিআওয়ামী লীগ

পেঁয়াজ আমদানি হলেও, বাজারে প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও, দেশের বাজারে কোন প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। রোববার দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি। এসময় দেশীয় কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে সেদিকেও খেয়াল রাখা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় আরেকটা কথা হলো, ভারত যে সময় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল সেই সময় আমরা তুরস্ক, মিশর, চীনসহ আরো অনেক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছি। তখন যে ৫ শতাংশ ডিউটি ছিল সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যাতে একটু কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যায়।

এখন যদি ভারতের পেঁয়াজের জন্য ডিউটি আবার বসাতেও হয়। তাহলে যে এলসিগুলো আগে ওপেন করা হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তারা যেন এর আওতার বাইরে থাকে। তারা পেঁয়াজ আনার পর লাভ করতে পারেনি, লোকসান করেছে, সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে আমরা লক্ষ্য রাখছি আমাদের কৃষকরা যেন মার না খায়।

আমদানি শুল্ক বাড়বে কিনা জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, আজকে আলোচনা করে ঠিক করব আমরা কী করব। যদি দেখি ভারতের পেঁয়াজ ৩৯ টাকায় ঢুকছে। সেটা আমাদের জন্য আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে তারা পেঁয়াজ রপ্তানি কখনো বন্ধ করে, কখনো খুলে দেয়। এখন তারা খুলে দিয়েছে। গত মার্চের মাঝামাঝিতে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আমাদের কৃষকের স্বার্থটা আগে দেখব। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও দেখব। আমাদের আশা আগামী তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হব।

তিনি বলেন, ভারত আজকে পেঁয়াজ ছেড়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ ঢুকছে ৩৯ টাকা দরে। আর ঢাকার বাজারে সেই পেঁয়াজ পাইকারিতে ৪৫ টাকা, আর খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে আমাদের পেঁয়াজ কিন্তু সেই রেটেই আছে। পাশাপাশি ভারতের পেঁয়াজ ঢুকলেও সমস্যার কিছু নেই। আজ বিকেলে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করবেন, সেখানে আলোচনা করে এ বিষয় ফয়সালা করবেন।

পেঁয়াজ সংকটের কারণে আমদানি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের ক্রাইসিসের কারণে আমদানি হবে এমনটা নয়, নিয়মিত আমদানি হয়। আমাদের দেশে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ পেঁয়াজ ভারত বাদে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি হচ্ছে, পাশাপাশি মুরি কাটা পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আগামী মার্চ মাসে যে পেঁয়াজ আসবে সে পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না।

আমরা পর্যবেক্ষণে রাখব যদি আমদানি করতে হয় করব। এখন পেঁয়াজ উঠবে সেই সময় আমদানি করলে কৃষকরা দাম পাবে না। আমাদের ধারণা পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৮ টাকা। সেটা যদি কৃষকরা ২৫ টাকায় বিক্রি করতে না পারে তাহলে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। আর সেই পেঁয়াজ ঢাকা পর্যন্ত আসতে ৪০ টাকায় ভোক্তারা পাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছিলো তিন লাখ টন উৎপাদন বাড়ানো হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঘাটতি থাকে ৮ থেকে ৯ লাখ টন। গত বছর চাপের মুখে উৎপাদন এক লাখ টন বাড়ানো হয়েছিল। তিনি (কৃষিমন্ত্রী) আশাবাদী এ বছর তিন লাখ টন হবে, আমরাও আশাবাদী।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button