বাংলাদেশঅপরাধ

তুচ্ছ ঘটনা থেকেই সহিংসতায় ‍ঝুঁকছে কিশোররা

পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধে নজর দেয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের

হত্যা-ধর্ষণ-মাদকসহ নানা অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা যেন কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। তারা দল বাঁধছে এবং এক দল অন্য দলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছে। আর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে খুনের মতো সহিংসতায় মেতে উঠতেও যেন বাধছে না।

তেরো-চৌদ্দ থেকে ষোলো-সতেরো বছরের কিশোররা জড়াচ্ছে এসব ভয়ঙ্কর অপরাধে। মাদকের নেশায় পড়েও জীবন বলি দিচ্ছে তারা। কিশোর অপরাধ কমাতে, রাষ্ট্রকে শিশুবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকারকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে হালিম খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় সিফাত নামে ১৪ বছরের এক কিশোর। সিফাতের এমন আকস্মিক মৃতুতে হতবিহ্বল হয়ে পড়ে তার পরিবার। একই সঙ্গে সেই খবর গণমাধ্যমে প্রচারের পর কিশোর গ্যাংয়ের হত্যাকান্ড নিয়ে জনমনে নানাবিধ প্রশ্ন জন্ম নেয়।

শুধু সিফাত নয়, তার মত হত্যার বলি হয়েছে আরও অনেকে। খুন-ধর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে মামলার আসামিও হচ্ছে কেউ কেউ; এরা জেলখানায় কাটিয়ে দিচ্ছে জীবনের স্বর্ণযুগ।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ সংঘটনের মূল কেন্দ্রবিন্দু।  এ ছাড়া, পরিবার-সমাজ এবং স্কুল-কলেজও কিশোর অপরাধের জন্য কম দায়ী নয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন খন্দকার ফারজানা রহমান। কিশোর অপরাধ কমাতে শিশুবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।

জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের হিসেবে বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬০ লাখ। এদের ছোট একটি অংশও যদি বিপথগামী হয়, তা-ও একটি সুস্থ সমাজের জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

হাকিম মোড়ল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button