বাংলাদেশঅন্যান্য

দারিদ্রতাকে জয় করে মেধা তালিকার শীর্ষে সীমা

‘পায়ে হেটে ১০ কি.মি পথ পাড়ি দিয়ে কলেজ করতেন সীমা।  পড়া লেখার খরচ চালাতেন টিউশনি করে। অভাব-অনটন মাড়িয়ে অধ্যবসায় আর পরিশ্রম দিয়ে দারিদ্রতাকে যে জয় করা যায় তার উজ্জল দৃষ্টান্ত এই সীমা আক্তার। সীমার এই সাফল্য প্রমাণ করে মফস্বল থেকেও পৌছানো যায় শিখরে ।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জনকারী কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সীমা আক্তারের সাফল্যের এই কথা জানালেন, কলেজটির অধ্যক্ষ মো. মোসলেম উদ্দিন খান।

আর্থিক সংকট ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে স্নাতক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১০ই ফেব্রুয়ারী সীমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও পদক দিবে বলে জানা গেছে।

এই অর্জনের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সীমা বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা মোতাবেক অধ্যয়ন করায় এতো ভালো রেজাল্ট করা সম্ভব হয়েছে।প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় আনন্দিত বলে জানান সীমা।

তিনি আরো জানান, তার সাফল্যের পিছনে অন্যতম অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তার বড় বোন। এছাড়া তার ইচ্ছা-চেষ্টা, আর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সব সময়ই শক্তি দিয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিযোগ করার ইচ্ছার কথাও জানান সীমা। এ জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে সীমা আক্তার। ২০১৭ সালের (২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত) ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এই ফলাফলে তার বাড়িতে বইছে আনন্দের বন্যা।পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত তার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসী।

সীমা স্থানীয় গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৩.৭৫ ও হোসেনপুর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তার স্বপ্ন ছিল ইংরেজিতে অনার্স পড়ার। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার জন্য অনার্সে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

দরিদ্র বাবার ইচ্ছায় হোসেনপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজে পাস কোর্সে বিএসএস শাখায় ভর্তি হন তিনি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী (পাস) পরীক্ষায় তার রোল নং-৭৩৬৯৫৩৬, রেজিঃ নং-১৪১০২২৩৭২৬৪। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত ফলাফলে সীমা আক্তার সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৭৫ অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

সীমা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের চাঁন মিয়া ও রুকুন্নাহার দম্পতির সন্তান। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সীমা তৃতীয়। বাবা চাঁন মিয়া পুরাতন কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।

সৌরভ নূর, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button