আন্তর্জাতিকএশিয়া

চীনের ভেটোতে ভেস্তে নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দা প্রস্তাব

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায়, চীনের ভেটোতে আটকে গেল জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের নিন্দা প্রস্তাব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য দিয়েছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নিরাপত্তা কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য চীনের বিরোধিতার কারণে ওই যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা করতে জরুরী বৈঠক ডাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।

এতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও আটক নেতাদের মুক্তির আহবান জানিয়ে প্রস্তাব প্রণয়ন করে যুক্তরাজ্য। তবে, দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি ইউএন।

বুধবার চীন ভেটো দেওয়ায় মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বিবিসির খবরে বলা হয়, যৌথ বিবৃতি দিতে চীনের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীনের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

বৈঠকের আগে মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করে এই সামরিক অভ্যুত্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার।

মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত, এলিয়ট প্রাসফ্রিম্যান বিবিসিকে বলেন, চীন কৌশলগতভাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে এবং সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনাকে  মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু হিসেবে অভিহিত করেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মিয়ানমারের পরিস্থিতিকে মন্ত্রিসভায় রদবদল বলেছে। মিয়ানমারের ক্ষমতা এখন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের হাতে। দেশটির বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১১ জন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে বদলানো হয়েছে।  নতুন নির্বাচন কমিশন ও পুলিশপ্রধানও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দেশটির পরিস্থিতি ছিল শান্ত।  প্রধান শহরগুলোয় সেনাবাহিনীর টহল চলে। তবে রাতে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা গাড়ির হর্ন ও থালাবাসন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। মিয়ানমারের তরুণ ও শিক্ষার্থীরা অসহযোগ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।

এদিকে, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি দাবিতে ৭০টি হাসপাতালের চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীরা কাজ বন্ধ করেছেন।

মোহাম্মদ হাসিব, ডেস্ক রিপোর্ট

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button