খেলাধুলাক্রিকেট

নাটকীয়তায় ভরা টেস্টে তিন উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ক্রিকেট তার যাবতীয় অনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর রঙ মেলে ধরলো চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে। প্রথম চার দিন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেও শেষ দিনে পাত্তা পেলো না বাংলাদেশ। ৩ উইকেটের জয়ে, দুই ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে গেলো ১-০ ব্যবধানে।

২১০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের, রূপকথাময় জয়ের নায়ক কাইল মায়ার্স। একদিন আগেও যাকে খুব একটা চিনতো না ক্রিকেট বিশ্ব। টেস্ট অভিষেকেই তিনি নিশ্চিত করলেন, তাকে আর ভুলতে পারবে না কেউ।

অভিষেকে উজ্জ্বল কাইল মায়ার্স। পুরো টেস্টে একবারের জন্যেও বুঝতে দেননি এটিই তার প্রথম ম্যাচ। বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করে সাগরিকায় রীতিমতো দাপট দেখালেন সফরকারী এই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ দিন ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেছিলেন।

শেষদিনে সেখান থেকে নিজের ইনিংসকে টেনে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। খেললেন ৩১০ বলে ২১০ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস। লিখলেন জয়ের গল্প। দলকে জয়ের বন্দরে ভিড়িয়ে তবেই ছাড়লেন মাঠ।

তিন উইকেটে ১১০ রান নিয়ে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ দিন মায়ার্সের সাথে লড়াই জমিয়ে তোলেন বোনার। বিশাল লক্ষ্যের চাপ সামলে দিনের শুরু থেকে সাবলীল ব্যাট দু’জনের। অবশ্য দিনের শুরুতে এই জুটি ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলো সফরকারীরা। কিন্তু লিটন দাসের ক্যাচ মিসের কারণে খেসারত দিতে হয় বাংলাদেশকে।

তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি পার করে দুই সেশন। দ্বিতীয় সেশনে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান মায়ার্স। তখনও মাথার উপর বিশাল রানের চাপ। তাদের ধৈর্য্যশীল ইনিংসে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় সেশনে ভয়ংকর এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। বোনারকে ৮৬ রানে থামান তিনি। সাথে ভাঙে ২১৬ রানের জুটি।

বোনারের পরই ব্ল্যাকউডের দ্রুত বিদায়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত পায় স্বাগতিকরা। তবে উইকেটের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে দলকে সাফল্য এনে দেন মায়ার্স। তাকে মোটেও পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তাইজুল-নাঈম-মিরাজ, এমনকি মুস্তাফিজও। উইকেটে থিতু হয়ে চট্টগ্রামের মাটিতে রূপকথার নায়ক হয়েই শেষ করলেন মায়ার্স।

শেষ পর্যন্ত ২১০ রানে অপরাজিত থাকলেন মায়ার্স। ইনজুরির কারণে সাকিবে বোল করতে না পারার অসহ্য যন্ত্রণা, পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে থাকবে, এটাকে উপেক্ষা করার কোনো কারণও নেই।

মোহাম্মদ হাসিব, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button