দেশবাংলা

এখনো অত্যাচারের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ

শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতিকে যুগে যুগে শোষণ করেছে বহিরাগত নানা জাতি। লুণ্ঠিত হয়েছে বাংলার সম্পদ, বিপন্ন হয়েছে জাতিস্বত্তা। বাঙালি জাতিস্বত্তায় এমনই এক আতঙ্কের নাম নীলচাষ। ১৮ শতকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়,এর চাষ। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীলকুঠি। সারা বাংলার মত ফরিদপুরের বোয়ালমারীর কৃষকরাও, নীলকরদের অত্যাচারের স্বীকার হন। এখনো সেসব অত্যাচারের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে,আছে দু-একটি নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ।

১৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে,আমেরিকা থেকে ফরাসি বণিক লুই বোনার্ড, প্রথম এদেশে নীলবীজ নিয়ে আসেন। প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিসরে শুরু হলেও,১৮ দশকে পশ্চিমবঙ্গ,যশোর,খুলনা, বগুড়া,রাজশাহী,নাটোর,পাবনা ও ফরিদপুরে ব্যাপকভাবে শুরু হয়,নীলচাষ।

বাংলায় তখন প্রায় দেড় কোটি কৃষক, সরাসরি নীলচাষে যুক্ত ছিলেন। সেসময় নীলচাষ করতে গিয়ে সাধারণ কৃষকরা উৎপাদন করতে না পারায়,খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হন, অসংখ্য চাষী। তখন তারা  নীলচাষে অস্বীকৃতি জানালে, তাদের ওপর শুরু হত, ইংরেজদের অত্যাচার। পরে কৃষকরাও অঞ্চল ভিত্তিক গড়ে তোলেন, প্রতিরোধ।

ইতিহাসের প্রথম নীল বিদ্রোহ শুরু হয় ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার, চর নারানদিয়া গ্রামে। ১৮৩৩ সালে আলফাডাঙ্গার মীরগঞ্জে,ককার কনসার্ন অ্যানেল কেম্বল ডানলপ সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে,কৃষকদের বিদ্রোহ দমন করে। এতে কয়েক’শ কৃষক নিহত হন।

শেষ ১৮৪৮ সালে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন, ডানলপ। তাকে আলফাডাঙ্গার মীরগঞ্জে প্রধান কুঠির পাশে সমাহিত করা হয়। ডানলপের সমাধি ছাড়াও,বানচাকীতে ডানলপের মায়ের সমাধিসহ খরসূতী,ময়নার মদনধরি,কাদিরদী, সৈয়দপুর ও নড়িখালী গ্রামে, নীল কুঠির ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান রয়েছে।

বোয়ালমারীর পাচুড়িয়াতে সর্বপ্রথম নীল বিদ্রোহীদের সাথে,ইংরেজ নীলকরদের যুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন,ইতিহাস গবেষক। সম্প্রতি জাতীয় যাদুঘরের একটি প্রতিনিধি দল মীরগঞ্জ নীল কুঠির ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন কোরে, ডনলপের সমাধিসহ নীলকুঠির বিভিন্নস্থানের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে, কিছু করার আশা ব্যক্ত করেন।

ইতিহাসের প্রয়োজনে বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গার বিভিন্নস্থানে, নীলকরদের শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন, সচেতন মহল।

ডেস্ক রিপোর্ট/ বাংলা টিভি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button