
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ ভারতের উপর দিয়ে গেলেও, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল ও মাছের ঘের। একইসঙ্গে এসব এলাকায় অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টি। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে বহু পরিবার। এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে, ঝড়ের পর বিভিন্ন অঞ্চলে আরো দু’একদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
খুলনার উপকূলবর্তী কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক এলাকার মাঠ-ঘাট ও বাড়িঘর। কপোতাক্ষ, কয়রা ও শাকবেড়িয়া, শিবসা ও ঢাকী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে শত শত গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার ঘেরের মাছ।
বরিশালে বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। ক্ষতির মুখে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের। ক্ষতি হয়েছে জমির ফসলের।
ভোলার ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং বিভিন্ন চরাঞ্চলে ২ হাজার গবাদি পশু জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। অন্যদিকে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে বরগুনার ঢলুয়া ইউনিয়নের প্রায় ২শ পরিবারের বসতভিটা পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এদিকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলে দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। ঘূর্ণিঘড়ের সময় জোয়ারে ফুঁসে ওঠার পর এখন পানি নামতে শুরু করার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নদীপাড়। গত ২ দিনে কমলনগরের নাসিরগঞ্জ বাজার এলাকার প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে মেঘনায়।পানিবন্দি রয়েছেন ১০ গ্রামের মানুষ।
বাংলাটিভি/এস



