কাবুল বিমানবন্দরের কাছে ‘আত্মঘাতী’ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০

আফগাস্তিানের কাবুল বিমানবন্দরের কাছে ‘আত্মঘাতী’ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০ এ দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ।এতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩ সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়েছে।
গতকাল কাবুল বিমানবন্দরের কাছে এই বিষ্ফোরণ ঘটে।বিমানবন্দরের সীমানার কাছেই ব্যারন হোটেলের গেইটে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে।বিস্ফোরণের পর সেখানে গুলির শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই বিমানবন্দরের অ্যাবি গেইটের কাছে ঘটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ।
যুক্তরাজ্যের তত্ত্বাবধানে ব্রিটিশ নাগরিকদের পাশাপাশি আফগানদের মধ্যে কাদের সরিয়ে নেওয়া হবে, তা বাছাইয়ে কাজ চলছিল ওই হোটেলে।
তালেবানের কাবুল দখলের পর কূটনীতিক, বিদেশি নাগরিক ও অসংখ্য আফগানের দেশ ছাড়ার তোড়জোড়ের মধ্যে এ প্রাণঘাতী হামলা হল।মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে।
তবে এ ‘আত্মঘাতী’ বোমা হামলার পরও যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান থেকে সরে যেতে এবং কূটনীতিক, বিদেশি নাগরিক ও তাদের সহযোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা ৩১ অগাস্ট থেকে বাড়ানোর দরকার নেই বলে মত এ তালেবান কর্মকর্তার।
কাবুল বিমানবন্দরে আইএস এর আঞ্চলিক সহযোগী আইএসআইএস খোরাসানের সন্ত্রাসী হামলার হুমকির কারণে সতর্কতা জারি করেছিল পশ্চিমা দেশগুলো। বৃহস্পতিবার ওই সতর্কবার্তায় নাগরিকদের এলাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানায় বিমানবন্দরের অ্যাবি গেইটের বাইরে কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য দিয়ে সেখানে একটি নালার পাশে অপেক্ষা করছিলেন বহু আফগান। বিস্ফোরণে ধাক্কায় তাদের অনেকের দেহ নালায় গিয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সৈন্যরা বিমানবন্দরের ওই গেইটের কাছে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তারা বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানে অন্তত একজন হামলারকারীর গায়ে এক্সপ্লোসিভ ভেস্ট ছিল।
অ্যাবি গেইটের কাছে বিস্ফোরণের পর হামলাকারীদের একজন ভিড়ের মধ্যে গুলিও চালিয়েছে। সেখানে অবস্থানরত তালেবান যোদ্ধারা ফাঁকা গুলি ছুড়েছে বলেও কেউ কেউ দাবি করেছে।
আইএস এর একজন আত্মঘাতী যোদ্ধা ব্যারন ক্যাম্পের পাশে একদল দোভাষীর ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয় এবং শরীরে থাকা বোমার বেল্টে বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পেন্টাগনকে কাবুলে হামলার পাল্টায় কি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার পরিকল্পনা করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বাংলাটিভি/শহীদ



