আন্তর্জাতিকআইন-বিচার

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এফবিআই

নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর ওয়াশিংটন ডিসির কাছে পেন্টাগনে ছিনতাইকারীদের বিমান নিয়ে হামলায় নিহত প্রায় ৩ হাজার মানুষকে স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির নাগরিকদের ভাবনায় এখন ২০ বছর পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা কীভাবে তাদের সমাজকে বদলে দিয়েছে এবং ওই একটি ঘটনা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি একগুঁয়ে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল তাও স্থান পাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।২০ বছর আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে সেদিন যে দুটি বিমান আছড়ে পড়েছিল, তার প্রথমটি ঠিক এই সময়েই আঘাত হেনেছিল।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টুইন টাওয়ারে হামলায় (নাইন-ইলেভেন হামলা) সৌদি সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। শনিবার রাতে নাইন-ইলেভেন হামলার  ১৬ পৃষ্ঠার এই তদন্ত নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সেই নথিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নাইন-ইলেভেন হামলায় নিহতদের স্বজনদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই প্রকাশিত হলো এই নথি।

এফবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ হামলার মূল হামলাকারীদের অধিকাংশ সৌদি নাগরিক হলেও তাদের সঙ্গে বা ওই হামলার পরিকল্পনা/পরিচালনার সঙ্গে সৌদি সরকার কিংবা সরকারের কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা ছিল- তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার টুইন টাওয়ার ও সামরিক বাহিনীর সদর দফতর পেন্টাগনে ভয়াবহ বিমান হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বহুতল এই ভবনদ্বয়, তাৎক্ষনিকভাবে মারা যান প্রায় ৩ হাজার মানুষ এবং আহত হন ৬ হাজারেরও বেশি।

ওই হামলায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। তবে সবচেয়ে যেটি বড় ব্যাপার- ‍যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে  এর আগে এ ধরনের কোনো হামলা ঘটেনি।

টুইন টাওয়ারে হামলার পর তার দায় স্বীকার করেছিল সৌদি আরবভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদা নেটওয়ার্ক।

আল কায়েদা নেটওয়ার্ক হামলার দায় স্বীকারের পর এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ জন্মায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে। সেটি আরও ঘনীভূত হয়, যখন জানা যায় হামলাকারী বা বিমান ছিনতাইকারী ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই সৌদি নাগরিক এবং আল কায়েদা নেটওয়ার্কের তৎকালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেন সৌদি আরবের একটি বিশিষ্ট ও অভিজাত পরিবারের সন্তান।

হামলার পর প্রাথমিক তদন্তে দুই হামলাকারীর নাম-পরিচয় উদ্ধার করতে পেরেছিল এফবিআই। তাদের নাম- নাওয়াফ আল হাজমি ও খালিদ আল মিহধার। ২০০০ সালে তারা সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন।

সৌদি আরবের প্রতি সন্দিহান হওয়ার আরও একটি কারণ হলো- নাওয়াফ ও খালিদের জন্য যিনি আবাসনের বন্দোবস্ত করেছিলেন- সেই ওমর আল বেইউমি নিজে একজন সৌদি নাগরিক। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় তার একটি হালাল রেস্তোঁরা আছে এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে তার যোগাযোগও রয়েছে।

এদিকে, হামলায় নিহতদের আত্মীরা বছরের পর বছর ধরে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিলেন; কিন্তু তাদের এই দাবিতে কাজ না হওয়ায় এ দাবির পক্ষে নিউইয়র্কের একটি আদালতে মামলাও করেছেন তারা।

ফলে, এই নিয়ে বেশ চাপে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে তিনি দেশের আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আগামী ছয় মাসের মধ্যে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দেন। তার সেই নির্দেশের এক সপ্তাহের মধ্যেই তা ঘোষণা করল এফবিআই।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button