বাংলাদেশঅপরাধআইন-বিচার

অবৈধ সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

ডিজিটাল মাইক্রোফাইন্যান্সের নামে অবৈধ সুদের ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এসব তথ্য জানান।

গত ৫ এবং ৬ অক্টোবর ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃতরা হলেন ইমানুয়্যাল এডওয়ার্ড গোমেজ, আরিফুজ্জামান, শাহীনুর আলম, শুভ গোমেজ এবং মোহাম্মদ আকরাম। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি এলিয়ন গাড়ি , ৯টি মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ৪টি ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই। গ্রেফতার কৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন  র‌্যাপিড ক্যাশ, আমার ক্যাশ , ক্যাশ ক্যাশ নামের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে লোন দেয়ার নামে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে।

এসব অ্যাপ প্রায় ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখ মানুষ ডাউনলোড করেছে। সবাই ব্যবহার না করলেও বিশাল একটা অংশ এসব অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারিত হচ্ছে।

হাফিজ আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-ইউটিউবে ক্ষুদ্র, জামানতবিহীন ঋণ ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে অনৈতিকভাবে সুদের ব্যবসায় করতো তারা। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সংগ্রহে রাখতো।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যবসার মূলে রয়েছে কিছু চীনা নাগরিক। এদের ব্যবহৃত অ্যাপ মূলত চীনের সার্ভার থেকে পরিচালিত হতো। ফলে কত টাকা কিংবা কতজন এ ব্যবসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। এসব কাজ তারা মূলত দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে করে থাকে।

তারা যদিও বলতো তিন থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো লোন নিতে পারবে কিন্তু তারা তিন হাজার থেকে বেশি লোন দিতো না। প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের ছোট অ্যামাউন্টের টাকা দিয়ে পয়েন্ট অর্জন করতে হতো। প্রতি সপ্তাহে তাদের বিভিন্ন অ্যামাউন্টের টাকা দেওয়া হতো এবং সাপ্তাহিকভাবেই তাদের সুদসহ টাকা পরিশোধ করতে হতো। তারা প্রথমেই নানা খরচ যেমন অ্যাপ্লিকেশন ফি, সার্ভিস চার্জ এসব দেখিয়ে টাকা কেটে রেখে বাকি টাকা দিতো। কিন্তু গ্রাহককে পরিশোধ করতে হতো পুরো টাকাই। যেমন কোনো যদি গ্রাহক তিন হাজার টাকা নিতে চায় তাহলে সে পাবে ২১৫০ টাকা কিন্তু তাকে তিন হাজার টাকাই পরিশোধ করতে হতো।

কীভাবে গ্রাহক থেকে পরবর্তীতে টাকা উদ্ধার করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে থাকে। গ্রাহক জেনে না মোবাইলের বিভিন্ন সুবিধা যেমন লোকেশন, ক্যামেরা, ফাইলের অ্যাকসেস দিয়ে দেয় অ্যাপে। আর তার মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা। এতে টাকা পরিশোধ করতে তারা বাধ্য হয়। এরা অ্যাপে স্থায়ী কোনো ঠিকানাও দেয় না।

মূলহোতাদের গ্রেফতারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আর চীনের নাগরিক যারা আমাদের দেশে আছে তাদের আমরা ধরার চেষ্টা করবো। আর এর সঙ্গে যদি আরও কেউ জড়িত থাকে তাদেরও আমরা গ্রেফতার করবো।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, আমরা চাই না আমাদের দেশে কেউ অবৈধভাবে সুদের ব্যবসা করবে এবং এর মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হবে। এরা মূলত গ্রামের মহাজনদের মতো সুদের ব্যবসা করে আসছে।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button