fbpx
বাংলাদেশক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি ব্যর্থতা : বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশনে চরম ভরাডুবির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে। হতাশাজনক বাজে পারফরম্যান্সের জন্য কেউ দায়ী করছেন ক্রিকেটারদের, কেউ আবার সমালোচনা করছেন বোর্ড ম্যানেজমেন্টের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই টিমের এমন করুণ অবস্থা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে, এমন ব্যর্থতার পর দলের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পদক্ষেপ? সেটাই এখন প্রশ্ন সবার।
বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ছোট্ট একটি ঘরে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবির স্বপ্নের যাত্রা। বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সেই অন্ধকার ঘর ছেড়ে গুলশানের নাভানা টাওয়ার হয়ে, বিসিবির কার্যালয় এখন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। অর্থবিত্তেও ফুলে ফেঁপে উঠেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে শক্তিশালী এই সংস্থা। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা বিসিবি এখন; বিশ্বের পঞ্চম অর্থবান ক্রিকেট বোর্ড।

সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, আগের চেয়ে অনেক ব্যয় বাড়ার পরও বিসিবির মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন খাত থেকে বিসিবির মোট আয় ছিল ৩৩২ কোটি ৮২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বেশি। বোর্ডের  এতো আয়ের পরও, সেই অর্থে বাংলাদেশ ক্রিকেটের তেমন উন্নতি নেই।

সেই ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের সেরা আটে জায়গা করা মধ্য দিয়ে ওয়ানডেতে ভালো দল হওয়ার পথে শুরু হয়েছিল যাত্রা। সেই পথে হেঁটে ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারানো আর ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার ইংলিশদের পরাজিত করে আরও এগিয়ে যাওয়া। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ‘বাংলা ওয়াশ’, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত পরাশক্তির বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ বিজয়ে গায়ে লেগে যায় ভালো দলের তকমা। সেই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। যুক্তরাজ্যে হওয়া সেই আসরে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে উঠে যায় টাইগাররা। ধারাবাহিকতা বজায় ছিল ২০১৯‘র বিশ্বকাপেও। দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মত বড় দলকে হারিয়ে সেমিতে খেলার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল টিম বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ওয়ানডে দল হিসেবে বাংলাদেশ এখন মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। ইতিহাস-পরিসংখ্যানও সে সাক্ষীই দিচ্ছে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট আর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বরং দিনকে দিন অবস্থা যাচ্ছে  খারাপের দিকেই ।

সবশেষ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একনজরে দেখলে, ৮ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি-তে জিতেছে বাংলাদেশ দল। যে ম্যাচ দুটি জিতেছে, তাও প্রথম পর্বে, ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে। মূল পর্বে সুপার টুয়েলভে টানা ৫টি ম্যাচই প্রতিপক্ষের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে হেরে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।

চরম ব্যর্থ এক বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের সমালোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে। খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য অনেকেই সমালোচনা করছেন ক্রিকেট বোর্ডের। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বিসিবির সমালোচনা করতে গিয়ে, সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসানের অধীনে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের অবস্থা তুলে ধরেছেন। এক টুইটে সাবের হোসেন লিখেছেন, ‘জনাব পাপনের অধীনে বাংলাদেশ এই নিয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলে ফেললো। পারফরম্যান্স খারাপ থেকে খারাপতম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সময় কাটানো সভাপতি সবচেয়ে অযোগ্যও। অন্যের ওপর দোষ চাপাতে চাপাতে তিনি আমাদের ক্রিকেটকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। এটা দুঃখজনক যে আমাদের একটা নির্লজ্জ ক্রিকেট বোর্ড আছে।’

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার হাসিবুল হোসেন শান্তও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের এমন পারফরম্যান্সকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, খেলোয়ারদেরকে আরও পেশাদার হতে হবে, মাঠের বাইরে যা-ই ঘটে থাকুক তার প্রভাব যেন খেলায় না পড়ে।

সাবেক ক্রিকেটারদের প্রত্যাশা, সকল ঘাটতি ও দুর্বলতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button