বাংলাদেশআইন-বিচার

ওসি প্রদীপের ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন ‍

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় আজ সোমাবার। রায়কে ঘিরে কক্সবাজার আদালতে উপস্থিত হয়েছেন আসামিদের স্বজনরা। আক্ষেপ নিয়েই তারা রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছেন। আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আসামিদের স্বজনরাও মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত শাস্তি চেয়েছেন।  সোমবার সকালে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দুপুর দুইটায় হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে আদালত চত্বরে মানুষ আসতে শুরু করেছেন। এসে গেছেন আসামিদের স্বজনরাও। মাত্র ২৮ কার্যদিবসে শেষ হয়েছে মামলাটির বিচারিক কাজ।  আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত।

আদালত প্রাঙ্গনে ইতোমধ্যে হাজির হয়েছেন আসামি পক্ষের স্বজন কন্সটেবল সাফানুর করিমের ভাই জানে আলম, এএসআই লিটন মিয়ার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুনের বাবা আবুল হোসেন, কনস্টেবল কামাল হোসেনের স্ত্রী লিজা মনি ও কনস্টেবল রুবেল শর্মার স্ত্রী লক্ষী শর্মাসহ আরও অনেকেই। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা।

হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত। আদালত মামলাটির তদন্তভার দেন কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫কে। ওই বছরের (২০২০ সালের) ৭ আগস্ট মামলার আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিন বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও সাতজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর গত বছরের (২০২১ সালের) ২৪ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে।

এ মামলায় চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘশুনানি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে গত ১২ জানুয়ারি রায়ের জন্য ৩১ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন বিচারক।

বাংলাটিভি/জাবেদ

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button