সংসদে ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ

মহামারীকালের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠাসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্য নিয়ে, নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা বাজেট প্রস্তাব করেছে সরকার।
মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে, বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশাল এই বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এবার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
করোনা মহামারী ও বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব কাটিয়ে উঠে সার্বিক অর্থনীতি গতিশীল রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য, ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দেয়া হয়েছে আজ। জাতীয় সংসদে উত্থাপনের আগে সকালে প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।বিকেলে সংসদে শুরু বাজেট অধিবেশন। বাংলাদেশের ৫১তম, বর্তমান সরকারের টানা ১৪তম জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
এবার বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যেখানে মোট রাজস্ব আয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে, অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। বিদেশ থেকে ঋণ নেয়া হবে ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা। আর ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেও ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া হবে।২০২২-২৩ অর্থবছরের এই বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে, এতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭০ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। এছাড়া, শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। আর পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে স্বাস্থ্যখাত, সেখানে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।এই সীমা এখন বার্ষিক তিন লাখ টাকা।



