বাংলাদেশসরকার

‘বেনজীরের বিদেশযাত্রায় কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি’ বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর শেষে, দেশে ফেরার পর সোমবার (৩ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

“তার বিরুদ্ধে কোনো আদালত বা দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে বিদেশ ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি;” বলেন হাছান মাহমুদ।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গত ৪ মে রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাবেক পুলিশ প্রধান ৬ জুন দুদকে হাজির হন কিনা তা দেখার বিষয়।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বচ্ছভাবে দেশ পরিচালনা করে এবং দুদকের ওপর সরকারের কোনো প্রভাব নেই। “দুদক স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে;” বলেন হাছান মাহমুদ।

 

benazir 1

সিঙ্গাপুরে বেনজীর

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম শুক্রবার (৩১ মে) এবং শনিবার (১ জুন) সংবাদ প্রকাশ করেছে যে সাবেক আইজিপি বেনজীর গত ৪ মে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গেছেন।

গত ৪ মে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেছেন এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এর ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর গেছেন, ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকার সংবাদ মাধ্যমগুলো।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ পাঁচজনের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের নামে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশও দেয়া হয়। চলমান এই পরিস্থিতি তৈরির আগেই গত ৪ মে সপরিবারে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন সদ্য অবসরে যাওয়া পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, গত ৪ মে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনের একটি ফ্লাইটে তিন মেয়ে, স্ত্রীসহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যান তিনি। স্ত্রী জীশান মির্জার চিকিৎসাজনিত কারণে তারা সেদেশেই অবস্থান করছে।

দুদকে তলব

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৬ জুন বেনজীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। এছাড়া, ৯ জুন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল বেনজীর ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরপর বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে লেনদেনের তথ্য সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানায় দুর্নীতি দমন কমিশন।

এর আগে, গত ২৩ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে তাদের নামে ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন।

এই ধারাবাহিকতায়, আদালত কয়েক কোটি টাকা মূল্যের আরো কয়েকটি স্থাবর সম্পত্তি এবং ১১৯টি নথিতে অতিরিক্ত অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ্যাব বেনজীর আহমদ

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত।

এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

বাংলা টিভি / এমএএইচ

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button