শিক্ষা

শিক্ষার রথী-মহারথীদের এক মঞ্চে আনলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক

নিউজ ডেস্ক: “কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা,বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা”শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশের শিক্ষা বিভাগের রথি মহারথীদের আজ এক মঞ্চে একত্রিত আনলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

222222
নারায়ণগঞ্জ জেলার শিক্ষার উন্নয়নে একে এক যুগান্তকারী প্রয়াস হিসাবে বর্ণনা করেছেন উপস্থিত প্রায় সবাই।
শিক্ষা সংশ্লিট কে উপস্থিত ছিলেন না শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে আজ? শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সরকারের দুই জন গুরুত্বপুর্ণ সচিবকেও অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল (সি আর )আবরার স্বয়ং প্রধান অতিথি হিসাবে সারাক্ষণই উপস্থিত সবার বক্তব্য শুনলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে আমাদের তরুণ সমাজ। তারা আমাদের নাগরিক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম জীবদ্দশায় প্রজা হিসেবেই মৃত্যু হবে। কিন্তু আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়েছি। সেটা তরুণ প্রজন্ম এবং শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের কারণে হয়েছে। সে কারণে আমরা দায়বদ্ধ। শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথি হয়ে এ মন্তব্য করেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, এ প্লাস এবং গোল্ডেন জিপিএতে সয়লাব। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০ ভাগ ফেল করে। এমনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে ছাত্র যে মার্ক অর্জন করেছে তাই পাবে। রাষ্ট্র তাকে খয়রাতি কোনো মার্ক দেবে না। আমরা এই সস্তা জনপ্রিয়তা নেয়ার জন্য সেটা করবো না। শিক্ষক যে সম্মানের দাবিদার সেটা নিশ্চিত করব। অনেক সময় পেনশন পেতে ঘুরতে হয় সেগুলো আমরা দেখব। এগুলো আমাদের দায়িত্ব। সমস্ত স্কুলকে ভালো স্কুলে পরিণত করতে চাই। ভালো স্কুলে ভর্তি হতে না পারলে অভিভাবক হতাশ হবেন সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, আমার কাছে যখন তালিকা আসে, তখন দেখি পার্বত্য চট্টগ্রামের চেয়েও নারায়ণগঞ্জের শিক্ষকরা প্রশিক্ষণে কম আসে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এতদিন কোন বিষয়ে মনযোগী ছিলেন বুঝতে পারি না। বিভিন্ন জেলার একেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখেছি দুই তিনটি নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুর্বল।

স্কুল কলেজের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজিং কমিটিতে আসলে যে মধু খাওয়ার সুযোগ থাকে, সেটা সরিয়ে দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির হাতে দিয়ে দিতে হবে। আর তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ জেলা প্রশাসকের হাতে দিয়ে দিন। আমি গ্রামে স্কুলে থাকার সময় মাথায় করে স্কুলের উন্নয়ন কাজে মাটি এনেছি। কিন্তু বিগত দিনে স্কাউটিংকে রাজনৈতিক কারণে একদম নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। যদিও স্কাউটিংয়ের মূল আদর্শই ছিল সেবা করা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিক্ষা আজ সংকুচিত হয়ে পড়েছে জিপিএ-৫ অর্জন ও চাকরি পাওয়ার মধ্যে। কিন্তু পাস করা আর শিক্ষিত হওয়া এক নয়। পাসের হার বাড়লেও গুণগত শিক্ষা বাড়ছে না। সন্তান কতটা মানসম্মতভাবে শিক্ষা অর্জন করছে, সে দিকেই এখন অভিভাবকদের নজর নেই— সবাই ব্যস্ত শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের পেছনে। অর্থের বিনিময়ে অর্জিত শিক্ষায় দেশপ্রেম, ভদ্রতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ বিলুপ্তির পথে। তরুণ প্রজন্ম এখন কল্পনার জগতে বসবাস করছে। তারা কাকে অনুসরণ করবে, কাদের আদর্শে নিজের স্বপ্ন গড়বে, সেই পথনির্দেশনাও পাচ্ছে না। বাস্তবতা ও মানবিক গুণাবলি না শেখাতে পারলে এই প্রজন্মকে সঠিক পথে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা অনেক সময় তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করতে পারছে না। আগ্রহ তৈরি না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। এর ফলেই আমরা পরীক্ষা-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে হতাশা, মানসিক চাপ ও ক্লান্তিতে ভোগা শিক্ষার্থীদের দেখতে পাই, যারা পরবর্তীতে ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার মতো কাজেও জড়িয়ে পড়ছে। এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক ও মানসিক দুর্বলতার প্রতিফলন।
কেবল নয় ফলাফলমুখী শিক্ষা,বিকশিত হোক মানবতার দীক্ষা প্রতিপাদ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। মুখ্য আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মনিনুর রশিদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. জুলফিকার হায়দার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিববৃন্দ— নুজহাত ইয়াসমিন, বেগম বদরুন নাহার এনডিসি, মো: মিজানুর রহমান, মো: মজিবর রহমান এবং সৈয়দ মামুনুল আলম। বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়াও সভায় ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আলতাফ হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাগণ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

হাসান মাহমুদ / বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button