সব দুর্যোগে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর হাজারীবাগে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৩ জন মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও সনদ প্রদান করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেড.আর.এফ)।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে “শিক্ষা বৃত্তি ২০২৫” ফলাফল ঘোষণা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির ২৫ নম্বর দফার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি, সনদ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেড.আর.এফ-এর উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন আহমেদ অসীম। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিজের জন্য কিছুই করেননি। তিনি সবসময় জনগণকে নিয়ে ভেবেছেন ও কাজ করেছিলেন। সারাক্ষণ দেশের মানুষের কথা চিন্তা করতেন। অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন। তিনি সারাদেশে মানুষের মাঝে আইডল। তার মৃত্যুর পর একটি ভাঙা ব্রিফকেইস ও একটা স্যান্ডো গেঞ্জি পাওয়া গিয়েছিল। আসলে তিনি ছিলেন খুবই সাধারণ।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুধু বিএনপির না। তিনি সমগ্র বাংলাদেশের। আজকের জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান জিয়াউর রহমানের। তিনি আমৃত্যু দেশ নিয়ে ভেবেছিলেন। দলমতের ঊর্ধ্বে তার আদর্শ আমাদের সবার হৃদয়ে ধারণ করা উচিত। তার দেখানো পথে অগ্রসর হলে দেশটা আরও এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষায় ২১ জন এবং শাপলা একাডেমির ৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ২ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সনদ প্রদান করা হয়। মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তির অধিকারী হন।
এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী কাইসুর রহমান রঙ্গনের চিকিৎসার জন্য ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নানের পক্ষ থেকে একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়কে ১,০৮,৫৮০ (এক লক্ষ আট হাজার পাঁচশত আশি) টাকা এবং শাপলা একাডেমিকে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার অনুদান প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেড.আর.এফ) কার্যক্রম প্রসঙ্গে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেছেন, জিয়াউর রহমান তার স্ত্রী-পুত্রের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং যুদ্ধ করেন। মাত্র সাড়ে ৩ বছর শাসন করেছিলেন। এ সময়ে তিনি দেশের আমূল পরিবর্তন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সৎ এবং কর্মীবান্ধব এবং পরিশ্রমী। এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে জিয়াউর রহমানের অবদান নেই। সব খাতে তার অবদান রয়েছে।
ডা. ডোনার বলেন, জেডআরএফ সব দুর্যোগে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে যখনই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা দেখা দিয়েছে সেখানেই আমরা ছুটে গেছি। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ২০০৫ সাল থেকেই চালু করেছি। আমরা মনে করেছি যে, অনেকেই এসএসসি কিংবা এইচএসসি পাশ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পারে না। পরে আমরা একটি শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প নিয়েছি। এই প্রকল্পের আওতায় আজকে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছে। অনেকেই ডাক্তারও হয়েছে। এসব দেখে খুবই ভালো লাগে। আমরা খাবার পানির ব্যবস্থা করেছি। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কমল নামে ধান বীজ বিতরণ করেছি। প্রান্তিক মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়েছি।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছাঃ ফরিদা ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল এয়ারলিফ্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মান্নান-নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার মেহেনাজ মান্নান, জেড.আর.এফ-এর পরিচালক (প্রোগ্রাম) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেড.আর.এফ-এর মনিটর ডা. পারভেজ রেজা কাকন।সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ধানমন্ডি থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিন উদ্দিন (মামুন)। অনুষ্ঠানে রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও শাপলা একাডেমির শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
হাসান মাহমুদ / বাংলা টিভি



