আন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্ররাজনীতি

কুরআন হাতে শপথ, নিউ ইয়র্কে প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র

নতুন বছরের শুরুতেই এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো নিউ ইয়র্ক। সিটি হল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শপথ নিলেন নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। পবিত্র কুরআন হাতে শপথ নিয়ে তিনি গড়লেন অনন্য রেকর্ড; নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেয়া কোনো ব্যক্তি হিসেবে বসলেন নগরপিতার আসনে।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে নিউ ইয়র্কের সিটি হল প্রাঙ্গণে উপচে পড়া ভিড়। নতুন বছরের প্রথম প্রহরেই সেখানে জড়ো হয়েছেন রাজনৈতিক নেতা, কর্মী আর সাধারণ মানুষ। কড়া নিরাপত্তা আর দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ভিড়ে সরগরম পুরো চত্বর। সবার নজর একজন মানুষের দিকে, যিনি পাল্টে দিতে চান এই মেগাসিটির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ। মঞ্চে মামদানির পাশেই ছিলেন আরেক জনপ্রিয় প্রগতিশীল মুখ কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ। তিনি এ শপথ গ্রহণকে নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেন।

মার্কিন প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ বলেন, ‘এ উত্থান নিউ ইয়র্ক সিটির একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। যার নেতৃত্বে আছে একজন ঐতিহাসিক মানুষ জোহরান মামদানি। তিনিএ শহরকে আরও সুন্দর করে তুলবেন। প্রায় ৮৫ লাখ বাসিন্দার এ শহরে হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহর। কারণ তারা বেছে নিয়েছে ঐতিহাসিক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতৃত্বকে।’

শপথ নিয়েই নিজের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন নবনির্বাচিত মেয়র। নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া এক মিলিয়ন পরিবারের জন্য ‘রেন্ট ফ্রিজ’, বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার ও বাস সার্ভিস এবং সরকারি উদ্যোগে গ্রোসারি স্টোর চালুর পাইলট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।

জোহরান মামদানি বলেন, ‘ভাড়াটেদের সুরক্ষার জন্য মেয়রের কার্যালয় এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আবাসনের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। বাড়িওয়ালাদের যদি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ না করেন, তাহলে শহর সরকার হস্তক্ষেপ করবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ। মঞ্চে ছিলেন মেয়রের স্ত্রী রামা দুয়াজি।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল শপথ গ্রহণ পর্ব। জোহরান মামদানিকে শপথ পাঠ করান মার্কিন প্রগতিশীল রাজনীতির আইকন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেন মামদানি। স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, সাধারণ মানুষের সম্মিলিত শক্তির জয়ই আজ মামদানিকে এই মঞ্চে নিয়ে এসেছে।

মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের এমন একসময়ে আমরা আছি, যেখানে ঘৃণা, বিভেদ ও অবিচার চলছে। এমন পরিস্থিতিতে জোহরান মামদানিকে মেয়র নির্বাচিত করায় নিউ ইয়র্কবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নিউ ইয়র্ক সিটিসহ গোটা মার্কিন জাতিকে অনুপ্রাণিত করবেন জোহরান মামদানি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button