ডিসি হিলের নান্দনিক পরিবর্তনে মুগ্ধ, জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা

চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি হিল। চট্টগ্রাম শহরের প্রাকৃতিক নিঃশ্বাস নেওয়ার অন্যতম স্থানও এটি। লেখক স্বপন কুমার দাশ ডিসি হিলে প্রায় ৩৪ বছর ধরে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ডিসি হিলের নান্দনিক পরিবর্তনে মুগ্ধ হয়ে জেলা প্রশাসককে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হঠাৎ করেই তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রাতঃভ্রমণকারীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান লেখক স্বপন কুমার দাশ। নাগরিকের এই আন্তরিক কৃতজ্ঞতায় আবেগাপ্লুত হয়ে যান জেলা প্রশাসক।
স্বপন কুমার দাশ জানান, একসময় তিনি পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে স্ট্রোক করার পর সন্তানদের পরামর্শে ব্যবসা ছেড়ে অবসর জীবন শুরু করেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর নিঃসঙ্গ জীবনে ডিসি হিলের প্রাতঃভ্রমণই হয়ে ওঠে তাঁর দিনের প্রধান অবলম্বন। বর্তমানে খুলশি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করছেন তিনি। তাঁর দুই সন্তান বিদেশে ব্যারিস্টারি পড়ছেন।
তিনি বলেন, আমি ৩৪ বছর ধরে নিয়মিত ডিসি হিলে হাঁটছি। এটি আমার অবসর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘদিন সংস্কার না থাকায় মন খারাপ হতো। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক যেভাবে রুচিশীল ও নান্দনিকভাবে ডিসি হিল সাজাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ডিসি হিলের পরিবেশ বদলে যাবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডিসি হিল ঘিরে মানুষের সবসময় আলাদা এক টান কাজ করে। আমি যোগদানের পর দেখেছি হাঁটার পথ, বসার জায়গা ও সামগ্রিক পরিবেশ স্বাস্থ্যকর ও রুচিসম্মত নয়। তখন থেকেই ভাবতে থাকি এটিকে কীভাবে সুন্দর ও নিরাপদ করা যায়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, রং করা, রাস্তা সংস্কার ও লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে থার্ড লাইট বসানো হয়েছে । ফোয়ারা ও দুটি মঞ্চ সংস্কার, ওয়াশ ব্লক নির্মাণ, ডাস্টবিন স্থাপনসহ আরও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাস্কর্য এলাকাটিও নান্দনিকভাবে সাজানো হবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামের নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির সড়কে অবস্থিত ডিসি হিলে সকাল, বিকেল এমনকি সন্ধ্যাতেও নগরবাসীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও সাম্প্রতিক সংস্কারে খুশি বিভিন্ন প্রাতভিত্তিক সামাজিক সংগঠন।
শতায়ু অঙ্গন, ইয়োগা প্রভাতি, প্রভাতী আড্ডা এবং উজ্জীবনসহ একাধিক সংগঠন ব্যানার টানিয়ে জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানায়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ভোরের ডাক এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান ভুঁইয়া জানান, আগে ডিসি হিল ছিল ভাঙাচোরা ও অপরিচ্ছন্ন। এখন রঙ, লাইটিং ও পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতায় জায়গাটিই বদলে গেছে। ডিসি সাহেব শুধু পাহাড় নয়, আমাদের মনও আলোকিত করেছেন।
ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলের শুরুতে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় পাহাড়টি ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি পায়।
ওএফ



