ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে ভারতের সিকিম! সংকটে পাহাড়ের প্রাণ প্রকৃতি

ভারতের সিকিমে ভারত-চীন সীমান্তবর্তী পাঙ্গোলাখা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গত দু’দিন ধরে ভয়াবহ দাবানল জ্বলছে। বিরল বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এই অভয়ারণ্যটি এখন আগুনের লেলিহান শিখায় বিপর্যস্ত। বন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি বা তুষারপাত না হওয়ায় আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে, যার ফলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে পাহাড়ের বিশাল এলাকা জুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুনের তীব্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বন কর্মকর্তাদের মতে, শীতকাল হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত তুষারপাত না হওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আর্দ্রতাহীন এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন খুব দ্রুত বনাঞ্চলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও এই এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম, তবুও দ্রুত খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ এবং দমকলবাহিনী উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে আগুন আর গভীরে না পৌঁছাতে পারে।
সিকিমের পাঙ্গোলাখা অভয়ারণ্যের দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) উদাই গুরুং। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩ হাজার ফুট উচ্চতায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হেক্টর বা প্রায় ৩০ একর বনভূমি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উচ্চতায় এই বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদ পুড়ে যাওয়ায় পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজে উদ্ধারকারী দলগুলোকে চরম প্রতিকূলতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি এলাকাটি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় কিছু নিরাপত্তা বিধিনিষেধ রয়েছে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের গতিকে কিছুটা শ্লথ করে দিচ্ছে। দুর্গম ঢাল এবং পানির অভাব এই উদ্ধার অভিযানকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। তবুও বন বিভাগের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।



