আন্তর্জাতিক

গাজা আজ ক্ষুধার শহর

গাজা উপত্যকাজুড়ে এখন শুধু হাহাকার। যুদ্ধবিরতির খবর কাগজে-কলমে থাকলেও, সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি ন্যূনতম স্বস্তি। দীর্ঘদিনের অবরোধ আর কঠোর নিষেধাজ্ঞার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে উপত্যকাটি এখন তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে। কনকনে শীতের মাঝে খোলা আকাশের নিচে হাজারো মানুষ এখন স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে এক মুঠো ত্রাণ আর সামান্য চিকিৎসার আশায় দিন গুনছেন।

সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব একটা চোখে পড়ছে না। মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, প্রয়োজনের তুলনায় গাজায় ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে নামমাত্র। ফলে খাবারের জন্য চলছে রীতিমতো জীবনযুদ্ধ। গত শুক্রবার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় দেখা গেছে সেই করুণ দৃশ্য। এক বাটি ভাত কিংবা সামান্য এক টুকরো মাংসের আশায় শত শত মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের অনেকেই পেটের দায়ে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে এসেছেন মরুপ্রায় এই জনপদে।

জাতিসংঘের মতে, গাজার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের চেয়েও এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া। সংস্থাটির প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ত্রাণ প্রবেশের পথে থাকা সব জটিলতা অবিলম্বে দূর করতে হবে। কারণ, গাজাকে আবার বাসযোগ্য করে তোলার আগে সেখানকার ক্ষুধার্ত মানুষের প্রাণ বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় মানবিক অগ্রাধিকার।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি দিন দিন চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তিনটি প্রধান শরণার্থী শিবির। অভিযানের নামে সেখানে নিয়মিত চলছে দমন-পীড়ন ও প্রাণহানি। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNRWA) জানিয়েছে, নিরন্তর সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষ এখন চরম অভাব আর গৃহহীনতার মুখে দাঁড়িয়ে।

এই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মাঝেই গত ২২ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে গাজা নিয়ে এক আশাবাদী কিন্তু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘নিউ গাজা’ নামের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপে গড়ে তোলা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button