জেলেনস্কি এখন বিশ্বের সেরা ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’: ইরান

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক মন্তব্যের জেরে ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে কূটনৈতিক বাদানুবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করায় জেলেনস্কিকে সরাসরি ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ বলে কটাক্ষ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
দাভোসের ভাষণে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইরান সরকার হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার যে নজির গড়ছে, তা বিশ্বের স্বৈরশাসকদের জন্য একটি ‘বিপজ্জনক সংকেত’। তিনি বলেন, যথেষ্ট মানুষকে হত্যা করতে পারলে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়—এমন বার্তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমা বিশ্ব যখন উৎসবের ছুটিতে ছিল, তখন ইরানি জনগণের রক্ত ঝরানো হয়েছে।
ইরানের বিক্ষোভকারীদের রক্ষায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জেলেনস্কির এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা আক্রমণ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জেলেনস্কির পুরনো পেশার দিকে ইঙ্গিত করে তাকে ‘বিভ্রান্ত ভাঁড়’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন পৃথিবী এখন এদের নিয়ে ক্লান্ত।
জেলেনস্কি পশ্চিমা করদাতাদের অর্থ নিজের দেশের ‘দুর্নীতিবাজ জেনারেলদের’ পকেটে ভরছেন বলে দাবি করেন আরাগচি। ইরান বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে না বরং নিজের সুরক্ষা দিতে জানে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের অভিযোগ, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে সাহায্য করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই এই দাবি নাকচ করে আসছে।
ইরানে চলমান বিক্ষোভে সরকারিভাবে ৩ হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এই পাল্টাপাল্টি বাক্যযুদ্ধ কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস্ অব ইসরাইল।



