চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি, অবশেষে কারাগারে সিনিয়র সহকারী সচিব

মো. কামাল হোসেন ৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীবকে ‘পিতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত কামাল হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত তাকে ডিএনএ পরীক্ষাসহ তদন্তে সহযোগিতার শর্তে জামিন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি দুইবার এই শর্ত ভঙ্গ করায় প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়।
গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে (দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায়) মামলাটি করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্কুল জীবনের শুরু থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কামাল হোসেন তার প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেমের নামই ব্যবহার করেছিলেন। নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় তিনি কৌশলে চাচা-চাচিকে নিজের পিতা-মাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে এই পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা ভোগ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ক্যাডার হওয়া এবং তদন্তে সহযোগিতা না করায় আদালত এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।



