চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অনন্য মাত্রায় নিতে চায় যুক্তরাজ্য: স্টারমার

দীর্ঘ আট বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বইতে শুরু করেছে উষ্ণ বাতাস। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। চার দিনের এই সফরের প্রথম দিনেই গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন স্টারমার। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন অবসানের পথে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি।
দেশীয় অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে স্টারমার সরকার এখন মরিয়া। তাই নিরাপত্তা বা মানবাধিকার নিয়ে মতভেদ থাকলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। বৈঠকে স্টারমার স্পষ্ট করেন যে, বৈশ্বিক মঞ্চে চীন এক অনিবার্য শক্তি। তাই দ্বিমত থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দুই দেশের সম্পর্কের পুরোনো তিক্ততাকে ‘উত্থান-পতন’ হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের জন্য চীন প্রস্তুত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত বাণিজ্যিক নীতি ও ইউরোপের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে পশ্চিমা দেশগুলো এখন নতুন করে চীনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলছে। কয়েক দিন আগেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করে বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় এবার স্টারমার অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে বেইজিংয়ে হাজির হলেন।
বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেশ আশাবাদী। ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানো এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসা মওকুফের মতো ইতিবাচক বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে, স্টারমার বিশ্বাস করেন—ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই চীনের সঙ্গে এক ‘অনন্য’ ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।



