বাংলাদেশ

আরাকান আর্মির হাতে ৪২০ জেলে: উদ্ধারের অপেক্ষায় দিশেহারা স্বজন

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফের ৪২০ জন জেলের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। গত পাঁচ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এই বিপুল সংখ্যক জেলের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা আজও অজানা। স্বজনদের অভিযোগ, বাংলাদেশের জলসীমা থেকে তাঁদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলেও উদ্ধারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘দ্বীপের নারীরা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের এই করুণ আর্তনাদ তুলে ধরেন। সেন্ট মার্টিন থেকে আসা হুমায়রা ও রাবেয়া বেগম জানান, গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের স্বামীদের অপহরণ করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। উপার্জক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে পরিবারগুলো এখন নিঃস্ব। একদিকে সন্তানদের খাবার জোটানোর দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে দাদনের ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে তাঁদের জীবন এখন দুর্বিষহ। নিখোঁজ দুই জেলের বৃদ্ধ মা মদিনা বেগমের আকুতি, মরার আগে যেন তিনি সন্তানদের মুখটা একবার দেখে যেতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা এই পরিস্থিতির জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, নিজ দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা অপহৃত হচ্ছেন, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের। ছাত্রনেতা মেঘমল্লার বসুর মতে, এই বিশাল সংখ্যক মানুষ যদি বিএসএফের হাতে আটক থাকত, তবে দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠত; কিন্তু আরাকান আর্মির ক্ষেত্রে সরকারের নীরবতা রহস্যজনক। অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্র বিজয় হলেও সাধারণ জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। কেবল পর্যটন নয়, বরং সেন্ট মার্টিনের মানুষের জীবন ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলোর এখন একটাই দাবি—সরকার যেন অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button