কোনো প্রার্থীই আসে নাই, আমরা যেন ভিনদেশের নাগরিক: বললেন উড়িরচরের বাসিন্দারা

সারাদেশে যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে, তখন এক অন্যরকম নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের উড়িরচরে। দ্বীপটির উত্তর ও পশ্চিম অংশে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও সেখানে নেই কোনো নির্বাচনী আমেজ, পৌঁছাননি কোনো প্রার্থী।
উড়িরচর দ্বীপটি দুই ভাগে বিভক্ত। এর পূর্বাংশ চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। অথচ পশ্চিম ও উত্তরাংশ নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের অংশ হলেও সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে কোনো প্রার্থী ভোট চাইতে যাননি।
নদীভাঙনে সব হারিয়ে ভোলা, হাতিয়া বা রামগতি থেকে আসা এসব মানুষ এক যুগ আগে এই চরে ঠাঁই নিয়েছিলেন। কিন্তু নাগরিক অধিকার পেতে তাঁদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে গেলে তাঁদের ‘রোহিঙ্গা’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।
প্রশাসনিকভাবে চর এলাহী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলেও দূরত্ব ও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সেবাই পান না তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট দিতে হলে নদী পার হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। ফলে খরচ আর ভোগান্তির ভয়ে অনেকেই ভোট দিতে আগ্রহী হন না।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, “১২ তারিখ নির্বাচন, অথচ কোনো প্রার্থীই আসেননি। আমরা যেন দেশের ভেতরই ভিনদেশের নাগরিক।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য এসব ভোগান্তির অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অন্যদিকে, নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, যাতায়াত সমস্যা ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে এখনো সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সেখানে প্রচারণা শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।



