১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে: জামায়াত আমির

ফেনীতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকেই দেশে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বংশপরম্পরায় ক্ষমতার রাজনীতি বন্ধ করে একজন রিকশাচালকও যেন তার যোগ্যতাবলে উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধি হতে পারেন, এমন সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন তিনি।
বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানান।
শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত আমানত হিসেবে রক্ষা করা এবং সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি ফেনীতে বিগত সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দেশের বর্তমান আবহাওয়া ও প্রশাসনিক অবস্থা নিয়ে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বলেন, “প্রকৃতির ওপর লুণ্ঠন ও জুলুমের কারণেই আজ মাঘ মাসে শীত নেই আর বর্ষায় বৃষ্টি নেই। বিগত শাসকদের হঠকারী আচরণের মাশুল এখন পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে।”
প্রশাসনের একাংশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রশাসনের অবহেলা বা ভাগ-বাটোয়ারার কারণে এখনো চাঁদাবাজি চলছে। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে ‘নির্দয় ও কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের বিভিন্ন আসনের প্রার্থী এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান।



