কিছু বালক থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে: মির্জা আব্বাস

দেশ একদিকে শেখ হাসিনার শাসনামল থেকে বেরিয়ে এলেও অন্যদিকে এখনো কিছু অর্বাচীন বালকের দায়িত্বহীন আচরণ নতুন শঙ্কা তৈরি করছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার মতে, এসব অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে দেশকে আবারও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনে বায়রা ও হাব নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে নির্বাচন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে সরব হন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
এ সময় কিছু তরুণ নেতাকর্মীর আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা আব্বাস বলেন,
“কিছু ছেলে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে লম্বা লম্বা কথা বলছে। ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম না নিলেও তারা আমার নাম নেয়। আরে ভাই, ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নাম নাও, প্রশংসা করো।”
ঢাকা–৮ আসনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি আসন নয়, সারাদেশের নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও বিএনপি এখনো ধৈর্য ও সহনশীলতার পথেই রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এই ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে। বিএনপি চায় একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ভোট কোনো পক্ষের দান নয়; এটি এসেছে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও ত্যাগের ধারাবাহিকতায়। তার বক্তব্যে উঠে আসে, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর যে স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল, বাস্তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো তা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো স্বার্থের বিনিময়ে তিনি রাজনীতি করেননি।
নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী ৪০ লাখ বোরকা অর্ডার করেছে, যার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তার দাবি, বোরকা ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা ও জাল ভোটের পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভোটের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্বাচন শেষে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও ফল প্রকাশ না হলে প্রয়োজনে আন্দোলনের পথে যাওয়ার কথাও জানান মির্জা আব্বাস। একই সঙ্গে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পোলিং এজেন্ট ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।



