আজই ইরানে হামলা? মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ট্রাম্পের জরুরি সতর্কবার্তা

ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযানের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ড্রপ সাইট নিউজ’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই আজ রোববার থেকেই ইরানে সুপরিকল্পিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হতে পারে।
মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীদের এবারের লক্ষ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র বা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করা নয়। বরং তারা ‘ডেক্যাপিটেশন’ বা ‘শিরচ্ছেদ’ কৌশলের মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে লক্ষ্যবস্তু করতে চাইছে। ওয়াশিংটনের ধারণা, সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে পারলে ইরানি জনগণের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান ঘটবে, যা বর্তমান সরকারের পতন ত্বরান্বিত করবে।
সাবেক এক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার সূত্রমতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে প্রবলভাবে উৎসাহিত করছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, তেহরানে পশ্চিমাঘেঁষা নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল সব ধরনের সহযোগিতা করবে। গত শুক্রবার ওভাল অফিসে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন নৌবহর ইতিমধ্যেই ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তাদের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে কোনো অপারেশন চালানো যাবে না।
সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইরানও বসে নেই। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া এক কঠোর বার্তায় জানিয়েছেন, আমেরিকানরা যদি মনে করে অল্প সময়ের অপারেশনে যুদ্ধ শেষ করে দেবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। ইরান স্পষ্ট করেছে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ৪০ হাজার মার্কিন সেনা এবং তাদের ঘাঁটিগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হবে।
পুরোনো ‘সীমিত প্রতিক্রিয়া’র নীতি ছেড়ে ইরান এবার সরাসরি অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রণসজ্জার মধ্যেই ইস্তাম্বুলে তুর্কি নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার পথ খোলা রাখলেও নিজেদের প্রতিরক্ষা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করবে না। একদিকে নৌবহরের হুংকার, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে গোপন বৈঠক—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে আছে।



