আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প হা/ম/লা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে হুঁশিয়ারি খামেনির

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার বর্তমান কূটনৈতিক বৈরী পরিস্থিতি এখন এক সংঘাতময় মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং ওয়াশিংটনের ক্রমাগত হুমকির মুখে ইরানও তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে কোনো প্রকার সামরিক হানা দেয়, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং তা একটি ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বারবার ইরানে হস্তক্ষেপের যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তেহরান। খামেনির মতে, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে চাপ সৃষ্টি কিংবা রণতরী প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে ভীত করা সম্ভব নয়। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা আগে থেকে কোনো দেশ বা শক্তির ওপর আক্রমণ চালাবে না, তবে আক্রান্ত হলে তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

অবশ্য এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির মাঝেও তেহরান আলোচনার পথ একেবারে রুদ্ধ করে দেয়নি। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, তারা একটি ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনার উদ্দেশ্য যদি ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হয়, তবে তারা তাতে সায় দেবে না। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বহর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে, যা এই উত্তেজনার পারদকে আরও উসকে দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও বেশ টালমাটাল। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ১৯৭৯ সালের পর থেকে এমন তীব্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ইরান আর কখনো পড়েনি। একদিকে বহির্বিশ্বের চাপ আর অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা—এই দ্বিমুখী সংকটের মাঝেই তেহরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button