২ হাজার ৯০৮ দিন চাঁদ-সূর্য, মেঘ-বৃষ্টি দেখিনি: আমান আযমী

দীর্ঘ ৮ বছর বা ২ হাজার ৯০৮ দিন—এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও আকাশ দেখেননি, ছুঁয়ে দেখেননি মাটি, অনুভব করেননি বৃষ্টি বা সূর্যের আলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এভাবেই নিজের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রোববার তিনি তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমী ট্রাইব্যুনালকে জানান, ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে ৫০-৬০ জন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।
সে সময় চোখে রুমাল বা জমটুপি পরানোর ঠিক আগমুহূর্তে তিনি অপহরণকারীদের মধ্যে ডিজিএফআই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হককে চিনে ফেলেন। এরপর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি।
জবানবন্দিতে তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, গুম থাকাকালে তাঁকে কোনো প্রাকৃতিক আলো-বাতাসযুক্ত স্থানে রাখা হয়নি। সারা বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখে তাঁর ওপর চালানো হয়েছে সীমাহীন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবসহ নানাবিধ কষ্টের যে অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আদালতে আজ আযমীর আগে সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. হাসিনুর রহমান। এর আগে এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। এ দিন শুনানির সময় ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মামলার বাকি ১০ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।



