র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনকে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়: হাইকোর্ট

র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) গুলিতে পা হারানো লিমন হোসেনের দীর্ঘ লড়াইয়ে এক নতুন মোড় এল। লিমনের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেছেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, লিমন হোসেনকে কেন ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ওই ঘটনার জন্য দায়ী র্যাব কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে লিমনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও কাজী জাহেদ ইকবালসহ একদল দক্ষ আইনজীবী। আদেশের পর তাঁরা যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অবশেষে শুরু হলো।
আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এটি জীবন ও মর্যাদার অধিকার রক্ষার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। ক্ষতিপূরণ পাওয়া লিমনের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অংশ।
ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, কোনো অর্থই হারানো অঙ্গ ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তবে এই রুল জারির মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের অবিচারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলল।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১১ সালের ২৩ মার্চ। ঝালকাঠির রাজাপুরে তৎকালীন ১৬ বছর বয়সী কিশোর লিমন হোসেন যখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন র্যাবের এক অভিযানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। লিমনের অভিযোগ অনুযায়ী, র্যাব সদস্যরা তাঁকে ধরে নিয়ে পায়ে গুলি করেছিলেন। যার ফলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর বাঁ পা বিচ্ছিন্ন করতে হয়।
পঙ্গুত্ব লিমনকে থামাতে পারেনি। শত বাধা ও দারিদ্র্য জয় করে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। পরবর্তী বছরে জিপিএ-৪ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন এবং সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। অদম্য এই তরুণ বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।



