বাংলাদেশ

মিডিয়ার বড় অংশ একটা পক্ষের দিকে ঝুঁকে গেছে: আখতার হোসেন

রংপুর-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী এবং এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতা আখতার হোসেন গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কড়া বক্তব্য দিয়েছেন।

আখতার হোসেন সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, দেশের গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিডিয়া মালিকরা চাইলে সাংবাদিকদের দিয়ে পক্ষপাতমূলক সংবাদ করাতে পারেন, কিন্তু জনগণ সব বোঝে।

এখনই কোনো এক পক্ষে ঝাঁপিয়ে না পড়ে নিরপেক্ষ থাকুন। কারণ পরিস্থিতি যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে। একপক্ষীয় অবস্থান নিয়ে পরে জনগণের মুড বুঝে সুর বদলালে সাধারণ মানুষ তা আর গ্রহণ করবে না।

তিনি ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষ গুম, খুন ও জুলুম থেকে মুক্তি পেতে এই অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল। তবে স্বৈরাচার বিদায় নিলেও দুর্নীতি, অনিয়ম এবং আধিপত্যবাদ এখনো রয়ে গেছে। দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদমুক্ত দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও খেলাফতসহ ১১টি দল একজোট হয়ে নির্বাচনে লড়ছে। এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে সাজানো এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া।

নিজের কম বয়স নিয়ে সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বেশ আবেগঘন বক্তব্য রাখেন,
“অনেকেই আমাকে ‘চ্যাংড়া ছেলে’ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। হ্যাঁ, আমি বয়সে তরুণ। কিন্তু ভুলে যাবেন না, এই চ্যাংড়া আবু সাঈদ যখন পুলিশের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল, তখনই নতুন বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। ইতিহাসের বাঁক বদল এই তরুণরাই করে। এই তারুণ্যের শক্তি দিয়েই আমি রংপুরসহ পুরো বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করব।”

আখতার হোসেন স্পষ্ট জানান, কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করার সামর্থ্য বা ইচ্ছা কোনটিই তার নেই। তিনি মনে করেন, টাকার রাজনীতির কারণেই দেশ ধ্বংস হয়েছে। তাই ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা আর প্রচারণাই তার মূল শক্তি। নির্বাচিত হলে ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়নের কাজ করবেন বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

এই সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button