গোপনে জামায়াতের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগ সারোয়ার তুষারের

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে মনোনীত করা হলেও মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ প্রার্থী নিজেই।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, জোটের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কতিপয় নেতা-কর্মী গোপনে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন।
ঘটনার মূলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা ও প্রতীক নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা। এই আসনে জামায়াতের একজন প্রার্থী থাকলেও জোটের স্বার্থে সারোয়ার তুষারকে সমর্থন দেয় দলটি। এমনকি ব্যালট পেপার থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক সরিয়ে ফেলার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদনও করেছিল জামায়াতে ইসলামী। তবে কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ না করায় কারিগরি কারণে ব্যালটে প্রতীকটি থেকে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের পক্ষ থেকে জোটের প্রার্থী তুষারের পক্ষে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছে না বলে দাবি করা হচ্ছে। সারোয়ার তুষারের অভিযোগ, এক শ্রেণির নেতা-কর্মী দলীয় নির্দেশ অমান্য করে পর্দার আড়ালে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা জোটের ঐক্য ও জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে তুষার লিখেছেন, ‘মানুষ ভোট দেয় গোপন ব্যালটে, কিন্তু ভোটের প্রচারণা হয় প্রকাশ্যে। কোনো দায়িত্বশীল সংগঠন গোপনে ভোটের প্রচারণা চালাতে পারে না। চালায় না। অতি উৎসাহী কয়েকজনের কাজের দায় সংগঠনের নয়। মুসলমানের ওয়াদা ইবাদতের অংশ। আমরা যখন রোজা রাখি, মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে রাখি।’
তিনি লিখেছেন, ‘গোপনে/লুকিয়ে আহারের সুযোগ থাকলেও আমরা তা করি না। কারণ হাশরের ময়দানে আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর জেরার মুখে পড়তে হবে। জোট মানে ওয়াদা। জোট মানে সংহতি। জোট মানে আগে যা ছিল দাঁড়িপাল্লা, তা এখন শাপলা কলি। কোনো আদর্শিক সংগঠন ওয়াদার বরখেলাপ করতে পারে না। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন। আমিন।’



