বাংলাদেশ

স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে জামায়াত আমির যা বললেন

নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ এখন কেবল প্রতিশ্রুতি আর জনসভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ইতিহাসের পুরনো বিতর্কগুলো নতুন করে সামনে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। সম্প্রতি চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার ঘোষণা ও ইতিহাসের বয়ান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রামের সেই সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, একাত্তরের স্বাধীনতার সূচনা হয়েছিল চট্টলার মাটি থেকেই। তিনি এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, অলি আহমদই প্রথম ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলেন এবং তিনিই জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

জামায়াত আমিরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে নতুন কোনো তত্ত্বে বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে?

এই আলোচনার রেশ ধরে কর্নেল অলি আহমদের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সংক্রান্ত প্রচলিত ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেন, তাজউদ্দীন আহমদ অনুরোধ করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিতে রাজি হননি।

অলি আহমদের দাবি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানই কালুরঘাট থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জিয়াউর রহমান শুরুতে নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঘোষণা দিলেও অলি আহমদের পরামর্শেই পরবর্তীতে সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম যুক্ত করা হয়েছিল।

একই সময়ে জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর একটি পুরোনো ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার মহান ঘোষক হিসেবে অভিহিত করতে শোনা যায়। এদিকে জামায়াত আমিরের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট ঘিরেও দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল, তবে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে নারাজ।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই মৌসুমে স্বাধীনতার ঘোষক ও ইতিহাসের আদি-অন্ত নিয়ে শুরু হওয়া এই বাগযুদ্ধ সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। রিভোল্ট বা বিদ্রোহ আর স্বাধীনতার ঘোষণা কি এক—এমন মৌলিক প্রশ্নগুলোই এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button