মুক্তিযোদ্ধা ভাড়া করে জামায়াতের স্বাধীনতার পক্ষে আছি প্রমাণের চেষ্টা: সালাহউদ্দিন

কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার চকরিয়ার কোনাখালীতে এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করা জামায়াত এখন কৌশলে নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে মূলত তাকে ‘ভাড়াটে সাইনবোর্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে বিশ্বকে দেখানো যায় তাদের দলেও মুক্তিযোদ্ধা আছে। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, এটি একটি ভণ্ডামি ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কখনোই এই বিকৃতি মেনে নেবেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার মিশনে নেমেছে। দলটির আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে জামায়াত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করে তারা নতুন বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যারা একাত্তরে বাংলাদেশের জন্মেরই বিরোধিতা করেছিল, তাদের মুখ থেকে এ ধরনের ইতিহাস বিকৃতি অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারীদের অধিকার ও অবস্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের নারী সমাজকে চরমভাবে অপমান করেছে। কর্মজীবী নারীদের নিয়ে তাদের অবমাননাকর মন্তব্য এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাব মূলত নারীদের কর্মসংস্থান ধ্বংস করার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।
দেশের সব দেশপ্রেমিক মানুষকে এই মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।



