রাজনীতি

বিরিয়ানি আর নগদ টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী এলাকায় সহিংসতা, ভয়ভীতি, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকি, কালো টাকা বিতরণ এবং সাইবার হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, দিনমজুর, গরিব এবং সংখ্যালঘু নারীদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে, কেউ কেউ বিরিয়ানি ও নগদ টাকার বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ জানান এবং একই সঙ্গে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রার্থী, কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি চলছে। বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে, চেয়ার-টেবিল ভেঙে সভা ভণ্ডুল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের বোরকা ও মুখের কাপড় খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোটারদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে; বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ দেওয়া হবে বলে জানানো হচ্ছে। কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের জোর করে বাড়ি থেকে বের করে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানো হচ্ছে।

কালো টাকা ও ভোট কেনার অভিযোগও উত্থাপন করেন তিনি। খুলনা-৫ আসনে সংগঠিতভাবে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বিতরণ হচ্ছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কোটার ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাসী ও সহিংস ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের তৎপরতা নেই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার সাইবার হামলার অভিযোগও তোলেন। তিনি জানান, জামায়াতের আমির এবং নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সরকারি একটি দপ্তরের কর্মকর্তার ইমেইল ব্যবহার করে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস প্রবেশ করানো হয়েছে। এই ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে।

খুলনা-৫ আসনের মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও আগাম ব্যালট সরানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে কালো টাকা বিতরণ বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গওসুল আজম, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি আবুল খায়ের ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শেখ জাকিরুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button